নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর আদালতকক্ষে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বপ্না আক্তার, আর নির্বাক অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় সোহেল রানাকে।
রোববার (৭ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু।
রায় ঘোষণার সময় সোহেল রানাকে মুখে মাস্ক পরে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে তার পাশে বসা স্বপ্না আক্তার অঝোরে কাঁদছিলেন। তবে আদালত কক্ষ ও প্রাঙ্গণে উপস্থিত জনতার মধ্যে ছিল ভিন্ন প্রতিক্রিয়া। রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই অনেকেই হাততালি দিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। একই দিন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে পুলিশ।
পরবর্তীতে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানাকে প্রধান আসামি এবং স্বপ্না আক্তারসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
তদন্তে ডিএনএ, ফরেনসিক আলামত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে পুলিশ। তদন্ত শেষে ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।
বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং ঘটনাপ্রবাহের ধারাবাহিকতা আসামিদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে। বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, মামলায় একটি সুস্পষ্ট ‘চেইন অব ফ্যাক্ট’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা আসামিদের সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহ দাবি করেন, মামলায় ডিএনএ রিপোর্ট ও সিসিটিভি ফুটেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি আসামিদের খালাস প্রার্থনা করেন। বিকল্প হিসেবে সোহেল রানার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজা চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন জানান।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক এবং রায় ঘোষণাসহ পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা একে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে দ্রুত সম্পন্ন হওয়া আলোচিত বিচারিক কার্যক্রমগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করছেন।