এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল, ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :
দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সরকার পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)–এর প্রধান মোঃ আলী হোসেন ফকির–কে পদোন্নতি দিয়ে নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে আজ (মঙ্গলবার) এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা মোঃ আলী হোসেন ফকিরের জন্ম জেলা বাগেরহাট। মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে বিশেষায়িত ইউনিট—সব ক্ষেত্রেই তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সর্বশেষ তিনি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন–এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন বার্তা
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মতো অপরাধ দমন, এবং রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা মোকাবিলা—এসব ইস্যু সামনে রেখে নতুন আইজিপির নিয়োগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার যেখানে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির কথা বলছে, সেখানে নতুন আইজিপির ওপর বাড়তি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন সামনে রেখে প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও দৃঢ় ও কার্যকর করার অংশ হিসেবেই এই নিয়োগ দেখা হচ্ছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে মাঠ প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, দলীয় পরিচয়ে অপকর্ম দমনে কঠোর অবস্থান এবং জননিরাপত্তা জোরদার—এসব ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান পদক্ষেপ চাইবে সাধারণ মানুষ।
পেশাদারিত্ব বনাম রাজনৈতিক চাপ
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব প্রশ্নে জনমনে যে আলোচনার জন্ম হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে নতুন আইজিপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতার সম্ভাব্য সময়ে পুলিশ বাহিনীকে জনমুখী ও আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই হবে তাঁর নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা।
সব মিলিয়ে, মোঃ আলী হোসেন ফকিরের এই পদোন্নতি কেবল প্রশাসনিক রদবদল নয়—বরং একটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। এখন দেখার বিষয়, তাঁর নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী কতটা কার্যকরভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারে।