ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান, ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি—বিশ্ববাণিজ্য ও তেল সরবরাহে বড় ঝুঁকি
বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট :
ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালি ও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবরোধ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। সোমবার ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা) থেকে এই অবরোধ শুরু হয়, যা ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে।
মার্কিন সামরিক সূত্র জানায়, United States Central Command (সেন্টকম)-এর তত্ত্বাবধানে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় ১৫টির বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে UK Maritime Trade Operations সতর্ক করে বলেছে, পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও আরব সাগরের কিছু অংশে নৌ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
অবরোধে কঠোর বার্তা
ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ইরানের ‘চাঁদাবাজি’ ও ‘অস্থিতিশীলতা’ ঠেকানো। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে ইরানি জাহাজকে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হবে।
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
ইরান এই অবরোধকে ‘অবৈধ’ ও ‘দস্যুতার শামিল’ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) নৌবাহিনী যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত। তেহরান সতর্ক করে বলেছে, তাদের বন্দর লক্ষ্যবস্তু হলে পুরো অঞ্চলের বন্দর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
কূটনীতি ব্যর্থ, যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত ৪০ দিনের যুদ্ধে রূপ নেয়। যুদ্ধবিরতির সময় ইসলামাবাদ-এ শান্তি আলোচনা হলেও তা ব্যর্থ হয়। এরপরই অবরোধের ঘোষণা আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় জলপথে ট্যাংকার নিয়ন্ত্রণ করা বাস্তবিকই কঠিন হবে এবং পরিস্থিতি দ্রুত সামরিক সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।
বিশ্ববাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
রাশিয়া এই অবরোধের সমালোচনা করে বলেছে, এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়িয়ে দেবে।
উত্তেজনার মধ্যেও চলাচল
অবরোধ শুরুর আগেই ইরান-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সারসংক্ষেপ
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ শুধু আঞ্চলিক উত্তেজনাই বাড়ায়নি, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি যে কোনো সময় আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, যদিও আন্তর্জাতিক মহল এখনো কূটনৈতিক সমাধানের আশা করছে।