বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট : টানা ৩৮ দিনের সংঘাত শেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ওয়াশিংটন সময় রাত ৮টা থেকে কার্যত হরমুজ প্রণালিতে ইরানের উপসাগরীয় বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করতে শুরু করে মার্কিন বাহিনী। এর আগে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবরুদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করা যেকোনো ইরানি জাহাজ তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হবে।
তবে মার্কিন এই কড়া অবস্থানকে উপেক্ষা করে অবরোধ শুরুর পরই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে চীনের একটি ট্যাংকার। ‘রিচ স্টারি’ নামের জাহাজটি উপসাগর ত্যাগ করা প্রথম ট্যাংকার হিসেবে শনাক্ত করেছে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিক ও কেপলার।
জানা গেছে, ‘রিচ স্টারি’ একটি মাঝারি আকারের ট্যাংকার, যাতে প্রায় আড়াই লাখ ব্যারেল মিথানল বহন করা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দর থেকে কার্গো নিয়ে যাত্রা শুরু করে জাহাজটি। এর মালিক প্রতিষ্ঠান ‘সাংহাই জুয়ানরুন শিপিং কোম্পানি লিমিটেড’—যার ওপর আগেই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত ‘মুরলিকিশান’ নামের আরেকটি ট্যাংকারও হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছে এলএসইজি। ধারণা করা হচ্ছে, খালি অবস্থায় থাকা এই জাহাজটি আগামী ১৬ এপ্রিল ইরাক থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন করবে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার ঘোষণায় আরও বলেন, ইরানকে অর্থ প্রদানকারী যেকোনো জাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় শনাক্ত করে আটক করতে মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, “অবৈধ টোল প্রদানকারীরা আর নিরাপদে চলাচল করতে পারবে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার ব্যর্থতা ও হরমুজ প্রণালিতে সামরিক তৎপরতা—উভয়ই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।