বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট : ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে ফের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশেপাশে হুমকি সৃষ্টি করা ইরানের চারটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক’ ড্রোন ভূপাতিত করার পাশাপাশি একটি সামরিক স্থাপনাতেও আঘাত হানা হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, পঞ্চম ড্রোনটি উৎক্ষেপণের প্রস্তুতির সময়ই বন্দর আব্বাসের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ওই স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও শহরের পূর্বাঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই হামলার ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। প্রায় তিন মাস ধরে চলা সংঘাত থামাতে চলমান আলোচনার মাঝেই এমন হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘদিন নৌ-চলাচল ব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও বাড়তে শুরু করেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বহু বাণিজ্যিক ট্যাংকার এখনো আটকা পড়ে রয়েছে।
তিন দিনের মধ্যে এটি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় হামলা। মার্কিন বাহিনী এসব অভিযানকে “আত্মরক্ষামূলক” বলে দাবি করেছে। সেন্টকম জানিয়েছে, তাদের পদক্ষেপ ছিল “পরিমিত, সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার লক্ষ্যে পরিচালিত।”
এর আগে সোমবার দক্ষিণ ইরানে আরেকটি হামলার কথা স্বীকার করে সেন্টকম। সে সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও হরমুজে মাইন স্থাপনের চেষ্টাকারী নৌযানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে ইরান এই হামলাকে “যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন” হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা যুদ্ধবিমান ও ড্রোন লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে।
এদিকে বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেন, ইরান “শেষ সম্বল দিয়ে আলোচনা করছে”। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, “হয়তো আমাদের ফিরে গিয়ে কাজটা শেষ করতে হবে, আবার হয়তো হবে না।”
তিনি আরও জানান, ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনো সন্তুষ্ট নয় এবং তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। অন্যথায় নতুন হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সঙ্গে লেবাননে ইরান-সমর্থিত Hezbollah-এর সঙ্গেও সংঘাতে জড়িয়ে আছে Israel।