বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট : সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যৌন সহিংসতার অভিযোগে এবার ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষকে (ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস) কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। ২০২৬ সালের জন্য প্রস্তুত করা তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেরুজালেম পোস্ট।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের মহাসচিবের কার্যালয় এ তালিকা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের আরও কয়েকটি কর্তৃপক্ষকে পর্যবেক্ষণ কাঠামোর আওতায় রাখা হয়েছে, যাদের ভবিষ্যতে কালো তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে।
জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ বা সশস্ত্র গোষ্ঠী একবার তালিকাভুক্ত হলে কমপক্ষে এক বছর সেই তালিকায় থাকে। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসকে একই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
এ সিদ্ধান্তের পেছনে জাতিসংঘের সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেনের প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং পরবর্তী সময়ে জিম্মিদের আটক অবস্থায় হামাস সদস্যদের দ্বারা ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে।
ইসরায়েলের দাবি, হামাসকে তালিকাভুক্ত করার পর আন্তর্জাতিক মহল থেকে জাতিসংঘ মহাসচিবের ওপর ইসরায়েলকেও একই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইসরায়েলকে সম্ভাব্য তালিকাভুক্তির বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। সে সময় তিনি সশস্ত্র সংঘাতে যৌন সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে ‘গুরুতর উদ্বেগ’-এর কথা উল্লেখ করেন। তবে ইসরায়েল বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
গত এক বছরে জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন ও তার প্রতিনিধিদল মহাসচিবের কার্যালয়ের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে। অভিযোগের জবাবে ইসরায়েল বিভিন্ন নথি, তথ্য ও ব্যাখ্যা জমা দেয় এবং জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আমন্ত্রণও জানায়।
তবে এসব উদ্যোগের পরও শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষকে ২০২৬ সালের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসংঘ।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট