বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা: বাংলাদেশি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। জোরপূর্বক শ্রম (ফোর্সড লেবার) ব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগকে সামনে রেখে বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর)।
মঙ্গলবার (২ জুন) প্রকাশিত এ প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এতে বর্তমানে কার্যকর ১৯ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে নতুন শুল্ক যুক্ত হলে মোট শুল্কহার দাঁড়াবে ২৯ শতাংশে।
ইউএসটিআরের দাবি, তালিকাভুক্ত দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার ও বাণিজ্যে অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
তবে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পে ফোর্সড লেবারের কোনো বাস্তবতা নেই। এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ অন্যায্য এবং এর বিরুদ্ধে তারা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর রিয়াজ মনে করেন, নতুন শুল্কনীতি দেশের রপ্তানি খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোও যদি একই ধরনের শুল্কের আওতায় পড়ে, তাহলে প্রতিযোগিতামূলক ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলক কম হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সক্রিয় কূটনৈতিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ইউএসটিআরের প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মেক্সিকো, পাকিস্তান, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে ভারত, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশের জন্য প্রস্তাবিত শুল্কহার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।