মক্কা, সৌদি আরব: ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে সৌদি আরবের মক্কা ও মিনা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির মিনায় সমবেত হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।
সোমবার (ইয়াওমুত তারবিয়া) সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে হজযাত্রীরা মক্কার নিজ নিজ আবাসন থেকে মিনার উদ্দেশে রওনা হন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে তারা তালবিয়া পাঠ করতে করতে ‘তাঁবু নগরী’ হিসেবে পরিচিত মিনায় পৌঁছান।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখেরও বেশি হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে এসেছেন। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সৌদি আরবের কয়েক লাখ অভ্যন্তরীণ হাজি।
হজের নিয়ম অনুযায়ী, হাজিরা সোমবার দিন ও রাত মিনায় অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটাবেন। মঙ্গলবার (৯ জিলহজ) ফজরের পর তারা আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন। আরাফাতে অবস্থান হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন হিসেবে বিবেচিত। সেখানে হাজিরা হজের খুতবা শুনবেন এবং জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় করবেন। সূর্যাস্তের পর তারা মুজদালিফার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।
পরদিন বুধবার (১০ জিলহজ) কোরবানির মাধ্যমে হজের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে এবং শুরু হবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন। পরবর্তী সময়ে হাজিরা তাওয়াফ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে ধীরে ধীরে নিজ নিজ দেশে ফিরতে শুরু করবেন।
এদিকে হজ মৌসুমে মক্কা ও আশপাশের এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে সৌদি আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হাজিদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল, কুলিং সিস্টেম, উন্নত চিকিৎসা সেবা এবং জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
হজ ব্যবস্থাপনায় এবার আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। ‘মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হজযাত্রী বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন। পাশাপাশি যাতায়াত, আবাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক।
তথ্যসূত্র: সৌদি গেজেট, আরব নিউজ ও দুনিয়া নিউজ।