বিশেষ প্রতিবেদন : রাজধানীর ব্যস্ততম যাত্রাবাড়ী-ডেমরা পুরাতন সড়কে অবস্থিত ঢাকার ঐতিহ্যবাহী “কাজলা-মৃদা বাড়ি গরু-ছাগলের বিরাট হাট ২০২৬”কে কেন্দ্র করে ভয়াবহ যানজট, জনদুর্ভোগ ও পরিবেশ বিপর্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে গরু-ছাগল নামানো ও হাট সম্প্রসারণের কারণে শনির আখড়া এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা।
হাটটির ইজারাদার হিসেবে রয়েছে কে. বি. ট্রেড। প্রোপ্রাইটর মোঃ শামীম খান। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ আবুস সালাম ও মোঃ তরিকুল ইসলাম তারেক। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে সড়ক দখল করে পশু নামানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শনির আখড়া মেইন রোড থেকে বাসপট্টি মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ট্রাকভর্তি গরু-ছাগল নামানোর দৃশ্য দেখা যায়। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে গণপরিবহন, ভোগান্তিতে পড়ছেন অফিসগামী মানুষ, নারী ও শিশু।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনির আখড়া এমনিতেই রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা। সেখানে রাস্তার দুই পাশ দখল করে পশুর হাট বসানোয় সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নারী ও শিশুদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। দুর্গন্ধ, বর্জ্য ও ময়লায় পরিবেশ বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে পুরো এলাকায়।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন— সিটি কর্পোরেশন, ট্রাফিক বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন কি এসব দেখেও না দেখার ভান করছে? জনগণের দুর্ভোগ উপেক্ষা করে কার স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে?
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কোরবানির পশুর হাটের নামে যদি রাজধানীর প্রধান সড়ক অচল হয়ে পড়ে, তাহলে সেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের চলাচলের অধিকার ক্ষুণ্ন করে ব্যবসায়িক সুবিধা আদায় করার সুযোগ কাউকে দেওয়া যায় না।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত সড়ক দখলমুক্ত করা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
জনগণের ভাষায়—
“হাট চাই, কিন্তু জনদুর্ভোগের বিনিময়ে নয়। প্রশাসনের দায়িত্ব জনগণের পাশে দাঁড়ানো, নীরব দর্শক হয়ে থাকা নয়।”