নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর আলোচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান “ব্রাইট স্কুল”-কে ঘিরে উঠেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি—স্কুলের পরিচালক লিটন ও কয়েকজন শিক্ষিকার মানসিক চাপ, অপমানজনক আচরণ এবং কঠোর ব্যবহারের কারণে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষাঙ্গনজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ।
সহপাঠীদের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। সেখানে উৎসাহ, মানবিকতা ও মানসিক সহায়তার পরিবেশ থাকার কথা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ব্রাইট স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভয়ভীতি, অপমান ও মানসিক চাপে রাখার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। তাদের ভাষায়, “শিক্ষার নামে যদি অপমান আর আতঙ্ক চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়বেই।”
ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পরিচালক লিটন ও অভিযুক্ত শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তারা বলছে, “একটি প্রাণ ঝরে যাওয়ার পরও যদি বিচার না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও অনেক শিক্ষার্থীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে।”
এ ঘটনায় অভিভাবক মহলেও চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান মানসিক নির্যাতন, অমানবিক শাসন ও কর্তৃত্ববাদী আচরণ এখন ভয়ংকর সামাজিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। তারা মনে করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা বারবার ঘটবে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হলেও বাস্তবে শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার্থীদের মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি স্পষ্ট। শিক্ষা খাতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, শিক্ষকদের আচরণগত জবাবদিহিতা ও মনস্তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণও এখন সময়ের দাবি।
তারা আরও বলেন, একটি শিক্ষার্থীর মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের শোক নয়, এটি রাষ্ট্র ও সমাজের জন্যও সতর্কবার্তা। শিক্ষাঙ্গনে ক্ষমতার অপব্যবহার, মানসিক নির্যাতন ও অপমানের রাজনীতি বন্ধ না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভয়াবহ মানসিক সংকটে পড়বে।
তবে এ বিষয়ে এখনো ব্রাইট স্কুল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।