বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট : মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-কে হত্যার জন্য ‘মাথার দাম’ বা পুরস্কার ঘোষণার বিষয়ে আলোচনা চলছে ইরানে। দেশটির পার্লামেন্টে উত্থাপিত এক প্রস্তাবিত বিলে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে হত্যার জন্য ৫০ মিলিয়ন ইউরো পুরস্কার নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। বিলটি বর্তমানে ভোটাভুটির অপেক্ষায় রয়েছে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের চেয়ারম্যান Ebrahim Azizi জানিয়েছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পারস্পরিক পদক্ষেপ শীর্ষক এই বিলের মাধ্যমে পুরস্কার ঘোষণার আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
ইরানের অভিযোগ, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির বিমান হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei নিহত হওয়ার ঘটনায় ট্রাম্প, নেতানিয়াহু এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জড়িত ছিলেন। জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের সদস্য মাহমুদ নাবাবিয়ান জানিয়েছেন, খুব দ্রুতই বিলটির ওপর ভোট হতে পারে।
এর আগে ধর্মীয় ফতোয়া ও রাজনৈতিক প্রচারণার মাধ্যমে পশ্চিমা নেতাদের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া হলেও এবার প্রথমবারের মতো বিষয়টি আনুষ্ঠানিক সংসদীয় আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, আলোচনা এখনো ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কার্যকর সমঝোতা চায়। আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ারও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের দাবি, যেকোনো চুক্তির আগে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দিতে হবে।
চলমান সংঘাতের কারণে ইরানের অর্থনীতি ও অবকাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। গ্যাসক্ষেত্র, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে দেশটির জনমনে অসন্তোষও বাড়ছে।
এ অবস্থায় ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম Truth Social-এ ইরানকে দ্রুত শান্তি চুক্তিতে আসার আহ্বান জানিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এদিকে নেতানিয়াহু জরুরি নিরাপত্তা বৈঠকের কারণ দেখিয়ে তার চলমান ফৌজদারি মামলার শুনানি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর তার এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
**সূত্র: ** The Telegraph