বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট : মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবে ৮ হাজার সেনা, ১৭টি যুদ্ধবিমান এবং একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। সোমবার (১৮ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান একদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও অন্যদিকে সৌদি আরবে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করে ইসলামাবাদ।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সৌদি আরব ভবিষ্যতে কোনো হামলার মুখে পড়লে পাকিস্তানি সেনারা দেশটির সেনাবাহিনীকে সহায়তা করবে। এ লক্ষ্যেই যুদ্ধ সক্ষম সেনাদের মোতায়েন করা হয়েছে।
গত বছর পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের যেকোনো একটিতে হামলা হলে অপর দেশ সামরিক সহায়তা দেবে। তবে চুক্তিটির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ চুক্তির পর বলেছিলেন, সৌদি আরব এখন পাকিস্তানের পারমাণবিক সুরক্ষা কাঠামোর আওতায় রয়েছে।
রয়টার্সের তথ্যমতে, সৌদিতে পাঠানো ১৭টি যুদ্ধবিমানের বেশিরভাগই জেএফ-১৭ ফাইটার জেট, যা চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করেছে পাকিস্তান। এপ্রিলের শুরুতে এসব যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়। একইসঙ্গে দুটি ড্রোন স্কোয়াড্রনও মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া পাকিস্তান সৌদিকে প্রয়োজনে আরও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। মোতায়েন করা সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে চীনের তৈরি এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
সূত্রগুলো বলছে, এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করছেন পাকিস্তানি সেনারা, তবে এর ব্যয় বহন করছে সৌদি আরব।
নতুন সেনা পাঠানোর আগেও সৌদিতে পাকিস্তানের কয়েক হাজার সেনা অবস্থান করছিল। নতুন মোতায়েন হওয়া সেনাদের একটি অংশ প্রশিক্ষণ ও সামরিক পরামর্শক হিসেবেও কাজ করবে বলে জানা গেছে।
রয়টার্স আরও জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের সময় সৌদির বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। এর জবাবে সৌদি আরব গোপনে পাল্টা হামলা চালায়।
সূত্র: রয়টার্স