বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট,আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ :
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের তাইবেহ এলাকায় নতুন ধরনের ফাইবার অপটিক নিয়ন্ত্রিত ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে ইসরায়েলের বহু বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলি দৈনিক Yedioth Ahronoth-এর অনলাইন সংস্করণ ‘ইয়নেট’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নতুন প্রজন্মের ফার্স্ট পারসন ভিউ (এফপিভি) ড্রোনগুলো প্রচলিত রেডিও বা স্যাটেলাইট সিগন্যালের ওপর নির্ভর করে না। বরং সরাসরি অপারেটরের সঙ্গে ফাইবার অপটিক কেবলের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। ফলে ইলেকট্রনিক জ্যামিংসহ আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এগুলোকে কার্যত ঠেকাতে পারছে না।
মেডিকেল হেলিকপ্টারেও হামলার চেষ্টা
একটি ঘটনায় দেখা যায়, আহত সেনাদের উদ্ধারে আসা একটি মেডিকেল ইভাকুয়েশন হেলিকপ্টারের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসে একটি ড্রোন। সে সময় ইসরায়েলের ইলেকট্রনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে সেনারা সরাসরি গুলি করে ড্রোনটিকে কয়েক মিটার দূরে বিস্ফোরিত করতে সক্ষম হন।
রাডার এড়িয়ে আঘাত হানতে সক্ষম
ড্রোনগুলো হালকা ফাইবারগ্লাস দিয়ে তৈরি হওয়ায় রাডার বা তাপ-সংবেদী সেন্সরে সহজে ধরা পড়ে না। ১০ থেকে ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ কেবলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় এগুলো খুব কাছাকাছি গিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
‘ট্রফি’সহ আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও অকার্যকর
ইসরায়েলের ট্যাংক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘ট্রফি’ সাধারণত ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও এই ড্রোনের বিরুদ্ধে তা কার্যকর হচ্ছে না। কারণ, এগুলো প্রচলিত অস্ত্রের মতো কোনো নির্দিষ্ট সিগন্যাল বা গতিপথ অনুসরণ করে না।
তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ: জাল টানানোর কৌশল
এই নতুন হুমকির মুখে ইসরায়েলি সেনারা সামরিক স্থাপনা ও অবস্থানের ওপর জাল টানিয়ে ড্রোন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল অস্থায়ী সমাধান।
কম খরচে বড় চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, কম খরচে তৈরি এসব ড্রোন অত্যন্ত নির্ভুলভাবে টার্গেট আঘাত করতে সক্ষম। ফলে ব্যয়বহুল অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্রের বিকল্প হিসেবে এগুলো দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত একই ধরনের প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা এখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে প্রতিফলিত হচ্ছে। এতে উচ্চমূল্যের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
তবে খারাপ আবহাওয়া বা কেবলের ক্ষতি হলে এই ড্রোনগুলোর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।