ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : প্রথম সাধারণ সম্পাদক (১৯৬০-৬১ ও ১৯৬৪-৬৬) মোস্তাফিজুর রহমান, প্রাক্তন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন খাঁনসহ প্রয়াত নেতাদের ও জীবিত প্রাক্তন সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকসহ ১৫ শ্রমিক নেতাকে ‘মে সম্মাননা’ দিল সুগার মিল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন।
১৯৫৬ সালে ঠাকুরগাঁও সুগার মিল প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু এবং ১৯৫৮ সালে শেষ হয়। ১৯৫৮-৫৯ হচ্ছে প্রথম আখ মাড়াই মৌসুম এই ঐতিহ্যবাহী চিনিকলের। আর এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঠাকুরগাঁও চিনিকল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন। ৬৬ বছর পেরোনো এ ইউনিয়ন দীর্ঘদিন পর পাকিস্তান আমলে স্থাপিত তাদের প্রায় পরিত্যক্ত দ্বিতল ভবনটিকে এবার আবার চালু করলেন এবং এখানেই এবারের মে দিবসে তারা শ্রদ্ধা জানালেন তাদের অতীত নেতাদের অবদানকে। মহান মে দিবস,২০২৬ উপলক্ষে শনিবার সকালে এ নিয়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। একটা অতীত বর্তমান নেতা-কর্মীদের মিলনমেলা বসে এখানে। জীবিত নেতাদের পাশাপাশি প্রয়াত নেতাদের উত্তরাধিকারদের কাছে মরণোত্তর সম্মাননা নিবেদন করলেন ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ খান রতনসহ বর্তমান কমিটি। ” এ ছাড়াও মহান মে দিবস ২০২৬ কে সফল করতে আলোচনা সভা ও র্যালি করেছে ঠাকুরগাও সুগার মিলস শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন।
ঠাকুরগাও সুগার মিলস শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন এর আয়োজনে শনিবার সকালে শহরের রোড বাজার এলাকায় সংগঠনটির নিজস্ব ভবনে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
ঠাকুরগাও সুগার মিলস শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ও বাংলাদেশ চিনি শিল্প কর্পোরেশন শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস এর সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য দেন ঠাকুরগাও সুগার মিলস শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ খান রতন, সহ সাধারন সম্পাদক রুহুল আমিন। ইউনিয়নের প্রথম সাধারণ সম্পাদক(১৯৬০-৬১ ও ১৯৬৪-৬৬) মোস্তাফিজুর রহমান, প্রাক্তন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন খাঁনসহ প্রয়াত নেতাদের পক্ষে তাদের পরিবারের সদস্যরা এবং জীবিত প্রাক্তন সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকগণ উপস্থিত থেকে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, চিনি শিল্পকে বাচিয়ে রাখতে হলে শ্রমিকদের সুরক্ষা প্রয়োজন। দক্ষ জনবল তৈরীর স্বার্থে মৌসুমী জনবল থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে পূর্বের ন্যায় অভ্যন্তরীণভাবে স্থায়ী পদে সমন্বয় করা, পদোন্নতি দিয়ে দক্ষ জনবল তৈরী করা এবং মজুরী কমিশনের শ্রমিকদেরও বিশেষ সুবিধার টাকা প্রদান করা উচিৎ বলে তারা জানান।বক্তারা মত প্রকাশ করেন, ঠাকুরগাঁও সুগার মিলসহ চিনিশিল্পের যে বিশাল সম্পদ তাকে আজকের প্রেক্ষাপটে ঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে চিনিশিল্প কখনই লোকশানে থাকবে না বরং তা লাভজনক ও দেশের সম্মৃদ্ধি আনার কাজে আসবে।তারা সুগার মিলগুলোকে আধুনিকায়ন করে চিনিশিল্পের সাথে জড়িতদের জীবন ও জীবিকাকে উন্নত করার দাবি জানান।
জাকির মোস্তাফিজ মিলু