প্রতিবেদক: ওয়াজেদ নয়ন | জামালপুর প্রতিনিধি
দৈনিক বঙ্গ নিউজ বিডি :
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৫নং জোড়খালী ইউনিয়নের ১১১ নং রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ বন্ধক দিয়ে সেখানে ইরি ধান চাষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের মোট ৫২ শতক জমির মধ্যে প্রায় অর্ধেক জায়গা—যেখানে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার কথা—সেটি এখন ধানক্ষেতে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি অত্যন্ত কম, অনেক কক্ষই ফাঁকা পড়ে রয়েছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, জমিটি বন্ধক দেওয়ার সঙ্গে বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লায়লা মুস্তারি, সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আংশিক স্বীকার করলেও দায় এড়িয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে দেখা গেছে পরস্পরবিরোধিতা, যা ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ম্যানেজিং কমিটির জ্ঞাতসারেই জমি বন্ধক দেওয়া হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত অডিও প্রমাণও রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বর্তমানে একজন ব্যক্তির কাছে জমিটি বন্ধক রেখে সেখানে ইরি ধান চাষ অব্যাহত রয়েছে।
বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ক্লাস চলাকালীন সময়েও শিক্ষকদের আড্ডায় ব্যস্ত থাকতে দেখা যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল বিমুখতা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে।
এ অবস্থায় অনেক শিক্ষার্থী মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে, বিশেষ করে ফ্রি ফায়ারসহ বিভিন্ন গেমে সময় কাটাচ্ছে। পাশাপাশি ক্যারাম খেলা ও মাদকাসক্তির ঝুঁকিও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির গঠন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মিজানুর রহমান এখনো প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে অ্যাডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একইসঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য—বিদ্যালয় যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে ওঠার স্থান, সেখানে যদি অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়, তবে তা পুরো শিক্ষাব্যবস্থার জন্যই এক অশনিসংকেত। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।