সিলেট প্রতিনিধি : পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশজুড়ে আনন্দ-উৎসবের আবহ বিরাজ করলেও সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলামের পরিবারে বিরাজ করছে উৎকণ্ঠা ও শঙ্কা। অভিযোগ উঠেছে, একটি ‘সাজানো’ মাদক মামলায় নাম জড়ানোর কারণে শহিদুল ইসলাম ও তার পুত্র বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন, ফলে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে পুরো পরিবার।
শুক্রবার (২০ মার্চ) রাতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শহিদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. জোসনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
তিনি দাবি করেন, শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের মালিকানাধীন ‘জাকারিয়া সিটি’ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করে আসছেন। সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী মহল প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিতে তাকে চাপ প্রয়োগ করে। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ষড়যন্ত্র করা হয় বলে অভিযোগ তার পরিবারের।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ মার্চ ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে ‘জাকারিয়া সিটি’ থেকে ফেরার পথে ডিবি পরিচয়ে শহিদুল ইসলামের গাড়ি থামানো হয়। তল্লাশিতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অবৈধ বস্তু না পাওয়া গেলেও পরে ‘ইয়াবা উদ্ধার’ দেখিয়ে একটি মামলা সাজানো হয়। তাদের দাবি, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত।
এ ঘটনায় শাহপরাণ (রহ.) থানা-এ দায়ের করা মাদক মামলায় শহিদুল ইসলাম ও তার পুত্রকে আসামি করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, কোনো ধরনের সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়াই মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে এবং এতে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের একজন সমর্থককে।
জোসনা বেগম বলেন, “এজাহারে উল্লেখিত সময়ে আমার স্বামী ও ছেলে অন্যত্র একটি ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন। এ সংক্রান্ত ভিডিও ও ছবিসহ প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। তবুও একটি সাজানো অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের ফেরারি হতে হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি পুলিশ তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নিলামে ক্রয়কৃত একটি বৈধ গাড়ি নিয়ে গেছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তারা বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
শহিদুল ইসলামের পরিবার জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
এসময় স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।