এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল : দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আজ এক গভীর অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, দমন-পীড়ন ও রাজপথের ত্যাগের ইতিহাসকে পেছনে ফেলে এখন দলে ক্রমশ প্রভাবশালী হয়ে উঠছে সুবিধাবাদী, তোষামোদকারী ও রাজনৈতিক দালালচক্র। তৃণমূলের পরীক্ষিত, ত্যাগী ও মেধাবী নেতাকর্মীরা যখন অবহেলিত, তখন অতীতে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আঁতাত করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলকারীরা আজ বিএনপির ভেতরে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ এখন সর্বত্র।
রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—যারা বিগত দেড় যুগে ক্ষমতার কেন্দ্রের আশপাশে ঘুরে বেড়িয়েছে, সুবিধাবাদী সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, আওয়ামী ঘনিষ্ঠ মহলে নিয়মিত যাতায়াত করেছে, তারাই যদি আজ দলে প্রভাব বিস্তার করে, তাহলে বিএনপির আদর্শিক অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
বিশ্লেষকরা বলছেন, দল যদি এখনই “মালের রাজনীতি” থেকে বেরিয়ে “মেধার রাজনীতি” প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, তাহলে সাময়িক জনপ্রিয়তার হানিমুন খুব দ্রুতই রাজনৈতিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। কারণ বসন্তের কোকিলেরা কখনো দুঃসময়ের সাথী হয় না। সংকট এলে তারাই প্রথমে পালিয়ে যায়।
দলের ভেতরে এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন আদর্শিক শুদ্ধি অভিযান, ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন এবং সুবিধাবাদী অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা। না হলে ভবিষ্যতে মাঠের কর্মীদের হতাশা আরও বাড়বে এবং সাংগঠনিক ভিত দুর্বল হয়ে পড়বে।
রাজনীতির বাস্তবতা নির্মম—জনগণ শেষ পর্যন্ত ত্যাগ, সততা ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতাকেই মূল্য দেয়। হাই কমান্ড যদি এখনই বাস্তবতা অনুধাবন করে সাংগঠনিক সংস্কারে না যায়, তাহলে সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন রাজনৈতিক মূল্য।