বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট : ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মেয়ে-জামাইয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিরাজুল ইসলাম ও কোহিনুর বেগম দম্পতি। কিন্তু সেই আনন্দযাত্রাই শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছে তাদের শেষযাত্রায়। কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ বাস-ট্রেন সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন এই দম্পতি।
নিহত সিরাজুল ইসলাম (৬২) ও কোহিনুর বেগম (৫৫) চৌগাছা উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের আজমতপুর গ্রামের বাসিন্দা। রোববার (২২ মার্চ) দুর্ঘটনার খবর গ্রামে পৌঁছালে পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন লক্ষ্মীপুরের রতনকাটি গ্রামে মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যশোর থেকে মামুন পরিবহনের একটি বাসে রওনা দেন তারা। পথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১২ জন যাত্রী। নিহতদের মধ্যে ছিলেন সিরাজুল ইসলাম ও কোহিনুর বেগমও।
স্বজনরা জানান, রাত ৩টার পর থেকে দম্পতির মোবাইল ফোনে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মেয়ে ও জামাই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তাদের মরদেহ শনাক্ত করেন।
এ খবর চৌগাছায় পৌঁছানোর পর থেকেই সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় বাড়তে থাকে। পরিবারের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকার পরিবেশ।
সারাজীবন একসঙ্গে পথচলা এই দম্পতির শেষ বিদায়ও হচ্ছে পাশাপাশি। নিজ গ্রামে তাদের জন্য পাশাপাশি দুটি কবর খনন করা হয়েছে। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ১০টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হবে।
নিহত সিরাজুল ইসলামের মেজ ভাই নুর ইসলাম বলেন,
“ভাই আর ভাবি এই প্রথম ঈদে মেয়ের বাড়ি যাচ্ছিল। কিন্তু আল্লাহ যা লিখে রেখেছেন, তা বদলানোর উপায় নেই। আনন্দের বদলে আমাদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।”
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, কুমিল্লার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চৌগাছার দুজন রয়েছেন। মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।