বঙ্গ নিউজ বিডি, স্টাফ রিপোর্টার: কাজল (ইব্রাহিম) :
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চর ভাটিয়ানী মৌজার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম মনোহর আকন্দ তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত একটি অনলাইন সংবাদকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন। সম্প্রতি একটি অনলাইন মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে জমি দখল, প্রভাব খাটানো ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি জানান। তার দাবি, এসব অভিযোগ তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।
মো. রফিকুল ইসলাম মনোহর আকন্দ (পিতা: মৃত মো. দেলোয়ার হোসেন আকন্দ, গ্রাম: চর লোটাবর, ডাকঘর: গুনার বাড়ি, উপজেলা: মাদারগঞ্জ, জেলা: জামালপুর) জানান, যেসব জমি নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে সেগুলো তার ও তার অংশীদারদের নামে বৈধ দলিলপত্রে নিবন্ধিত এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা আইনসম্মতভাবে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জমির রেকর্ডে সিএস খতিয়ান নং ৩১৭ ও ৩১৯ এবং সিএস দাগ নং ৪০৩ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরবর্তীতে একই জমি আরএস খতিয়ান নং ১ ও আরএস দাগ নং ৬০৫ এবং বি.এস খতিয়ান নং ৯১৯ খতিয়ানভুক্ত বিআরএস ৭২২ নং দাগের ৬ শতাংশ জমির অন্তর্ভুক্ত হয়। এছাড়া বিআরএস ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত বিআরএস ৫৪৮২ নং দাগের ২৭ শতাংশ জমির মধ্যে ৪ শতাংশসহ মোট প্রায় ১০ শতাংশ জমি নিয়ে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা সংক্রান্ত মামলার বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রফিকুল ইসলাম মনোহর আকন্দ আরও জানান, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভূমির মধ্যে সিএস ৩১৭ নং খতিয়ানভুক্ত সিএস ৪০৩ নং দাগের ১৪ শতাংশ এবং সিএস ৩১৯ নং খতিয়ানভুক্ত একই দাগের আরও ১৪ শতাংশসহ মোট ২৮ শতাংশ জমির রেকর্ডীয় মালিকানা পূর্ব থেকেই বিদ্যমান রয়েছে।
এছাড়া নথিপত্র অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির একটি অংশ পুকুর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সম্পত্তির তফসিল অনুযায়ী মৌজা ভাটিয়ানী, প্রজার বিআরএস ১২৩৯ নং খতিয়ানভুক্ত জে.এল নং ৯৫-এর অন্তর্গত ৩২৪ নং দাগের ১০৬ শতাংশ জমির মধ্যে ২১ শতাংশ এবং ৪৫১ নং দাগের ৫ শতাংশ জমির মধ্যে ২ শতাংশসহ মোট প্রায় ২৩ শতাংশ পুকুরের জমি তার বৈধ অংশ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, জমির মালিকানা সংক্রান্ত মূল দলিল, খতিয়ান, রেকর্ড ও কর পরিশোধের কাগজপত্রসহ প্রায় ১১২ পৃষ্ঠার আইনগত নথি তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রয়োজনে এসব নথি প্রশাসন, আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা সম্ভব বলেও তিনি জানান।
রফিকুল ইসলাম মনোহর আকন্দের বক্তব্য অনুযায়ী, জমির মালিকানা নিয়ে পূর্বে যে বিরোধ আদালতে গিয়েছিল, সে বিষয়ে শুনানি শেষে আদালত তার পক্ষে রায় প্রদান করেন। আদালতের ওই রায়ের মাধ্যমে জমির বৈধ মালিকানা তার ও তার অংশীদারদের নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বর্তমানে তারা আইনসম্মতভাবে জমি ভোগদখলে রয়েছেন।
তিনি জানান, বর্তমানে উক্ত জমির ওপর বসতবাড়ি, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরেই সেগুলো তাদের দখল ও ব্যবস্থাপনায় রয়েছে। ফলে হঠাৎ করে তার বিরুদ্ধে জবরদখলের অভিযোগ তোলা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ট্রাক সমিতি জোরপূর্বক দখল এবং বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়েও তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান। তার মতে, এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রামাণ্য দলিল বা নির্ভরযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, পূর্ব শত্রুতা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে।
রফিকুল ইসলাম মনোহর আকন্দ বলেন, তার কাছে থাকা দলিল, রেকর্ড ও আদালতের রায়ে জমির বৈধ মালিকানা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রকৃত তথ্য যাচাই করা হলে বিষয়টির সত্যতা সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।