নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি সঞ্চার করলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার রাতে সিলেটে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে তাঁর বহুল আলোচিত ও প্রতীক্ষিত আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি শুরু হলো, যা দলীয় রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তারেক রহমান সিলেটে পৌঁছান। এর আগে সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে তিনি ঢাকার গুলশান থেকে সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। এই সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক শীর্ষ ও সিনিয়র নেতা। সিলেটে পৌঁছে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তাঁর নির্বাচনী যাত্রার সূচনা করবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এই জিয়ারতকে ঘিরে ধর্মীয় অনুভূতি ও রাজনৈতিক বার্তার এক বিশেষ সমন্বয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হচ্ছে তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা। প্রথম দিনেই একাধিক জেলার জনসভায় অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় প্রত্যাবর্তনের স্পষ্ট বার্তা দিতে চান। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বৃহৎ নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্যের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
এরপর তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর আইনপুর খেলার মাঠে জনসভায় অংশ নেবেন। পথিমধ্যে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় প্রস্তাবিত উপজেলা পরিষদ মাঠে আরও একটি সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। দুপুরের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া ফুটবল মাঠে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেলে তিনি কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়াম এবং নরসিংদী পৌর পার্কে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেবেন।
ঢাকায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার অথবা রূপগঞ্জের গাউছিয়া এলাকায় আরও একটি জনসভায় অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। টানা দিনব্যাপী এই কর্মসূচি শেষ করে বৃহস্পতিবার রাতেই তিনি ঢাকায় ফিরে আসবেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণা শুধুই একটি আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী কর্মসূচি নয়; বরং এটি বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রস্তুতি, সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং মাঠের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান জানান দেওয়ার কৌশলগত পদক্ষেপ। একদিনেই একাধিক জেলায় জনসভা আয়োজনের মাধ্যমে দলটি তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাকর্মীদের চাঙা করতে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ জোরদার করতে চাইছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তারেক রহমানের এই সফর, কর্মসূচি ও বক্তব্য আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। বিএনপির এই সক্রিয় উপস্থিতি নির্বাচনী রাজনীতিকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গতিশীল করে তুলবে—এমন প্রত্যাশাও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।