শোকের দিনে বহিষ্কার: দলীয় শৃঙ্খলা না কি ত্যাগীদের প্রতি অবিচার?
এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ইতিহাসে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন নেত্রী নন—তিনি একটি আদর্শ, একটি সংগ্রামের নাম। সেই নেত্রীর মৃত্যুদিনে দলের ভেতর থেকে নয়জন ত্যাগী নেতাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর প্রশ্ন ও বেদনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি শুধু দুঃখজনক নয়, বরং দলীয় রাজনীতির নৈতিকতার জায়গা থেকে অত্যন্ত বিব্রতকর।
যেসব নেতারা গত ১৭ বছর রাজপথে থেকে মামলা-হামলা, নির্যাতন ও ত্যাগ স্বীকার করে দলের পতাকা আগলে রেখেছেন—তাঁদের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত কি এই শোকাবহ দিনে গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শৃঙ্খলার প্রশ্নে দল কঠোর হতেই পারে, তবে সময় ও প্রক্রিয়া বিবেচনায় সংবেদনশীলতা থাকা জরুরি ছিল।
একজন ত্যাগী নেতা তৈরি হতে যুগ লাগে, কিন্তু তাঁকে ভেঙে দিতে সময় লাগে মাত্র একটি সিদ্ধান্ত। ম্যাডামের দাফনের পর তাঁদের ডেকে এনে বোঝানো, সতর্ক করা কিংবা রাজনৈতিকভাবে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া যেত। এতে দল যেমন মর্যাদা রক্ষা করতে পারত, তেমনি ত্যাগীদের মনোবলও অটুট থাকত।
আজ বাস্তবতা হলো—এই ধরনের সিদ্ধান্ত তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করছে। ত্যাগীরা যদি মনে করেন তাঁদের মূল্যায়ন নেই, তাহলে দলের কমান্ড মানতে অনীহা সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ রাজনীতি কোনো আখেরাতের টিকিট নয়—দল না করলেও কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না, এই বাস্তবতা এখন অনেকেই নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন।
এই বহিষ্কার শুধু নয়জন নেতাকে নয়, বরং দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগের সংস্কৃতিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। যদি এই প্রবণতা চলতে থাকে, তবে এক সময় দল হারাবে তার সবচেয়ে বড় শক্তি—নিবেদিত ও পরীক্ষিত ত্যাগী নেতাকর্মীদের।
সম্পাদকীয় মতামত হলো—দলীয় শৃঙ্খলা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তা প্রয়োগের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, মানবিকতা ও সময়জ্ঞান অপরিহার্য। নতুবা ইতিহাস ক্ষমা করে না, আর ত্যাগীর অভিমান কখনোই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।