নিজস্ব প্রতিবেদক : ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারে দেশে ভূমি সেবায় এসেছে বড় পরিবর্তন। খতিয়ান তোলা, নামজারি (মিউটেশন) ও ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ—যে প্রক্রিয়াগুলো একসময় ছিল জটিল, সময়সাপেক্ষ ও দালালনির্ভর, এখন তা সহজেই পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে। ফলে কমছে ভোগান্তি, বাড়ছে স্বচ্ছতা এবং হ্রাস পাচ্ছে দুর্নীতি।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, অটোমেশন চালুর ফলে নাগরিকরা এখন ঘরে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বেশিরভাগ ভূমি সেবা নিতে পারছেন। এতে সরাসরি ভূমি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকাংশে কমেছে।
বর্তমানে অনলাইনে নামজারি আবেদন, ই-নামজারি নিষ্পত্তি, খাজনা পরিশোধ, খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ সংগ্রহসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি ধাপে এসএমএস নোটিফিকেশন থাকায় আবেদনকারীরা সহজেই অগ্রগতি জানতে পারছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটির বেশি ই-নামজারি আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে এবং প্রতিবছর ৪০–৫০ লাখ মানুষ অনলাইনে খাজনা পরিশোধ করছেন। এতে প্রবাসীরাও বিদেশে বসে সহজেই নিজেদের জমির কর পরিশোধ করতে পারছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল সেবার কারণে নির্ধারিত ফি ও সময়সীমা স্পষ্ট হওয়ায় দালালচক্রের প্রভাব কমছে। পাশাপাশি ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থায় কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতাও বেড়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির কাজ করছে, যেখানে দেশের সব ভূমি রেকর্ড, খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ সংরক্ষণ করা হবে। এছাড়া জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে মানচিত্রভিত্তিক জমির তথ্য প্রদর্শন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে জাল কাগজপত্র শনাক্তের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং ভূমি সেবায় পুরোপুরি স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।