টেক্সটাইল খাতে কর ১৫% পুনর্বহাল, করপোরেট ট্যাক্স ২৫% থেকে ২০%-এ নামানোর প্রস্তাব
নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭ উপলক্ষে প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে Japan-Bangladesh Chamber of Commerce and Industry।
রোববার আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময়ে ব্যবসায়ীরা উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক ঋণের সুদের চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং জটিল কর ব্যবস্থার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
তবে একইসঙ্গে তারা মনে করেন, Japan–Bangladesh Economic Partnership Agreement বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন জোরদার এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জেবিসিসিআই’র পক্ষ থেকে করপোরেট কর হার ২৫% থেকে কমিয়ে ২০% করার সুপারিশ করা হয়। তাদের মতে, প্রতিযোগিতামূলক কর কাঠামো বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব আয় বাড়াতে সহায়ক হবে।
বিশেষ করে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত টেক্সটাইল শিল্পের ওপর গুরুত্বারোপ করে সংগঠনটি জানায়, আগে এ খাতে করহার ছিল ১৫%, যা বর্তমানে বাড়ানো হয়েছে। ফলে বাড়তি করের চাপে শিল্পটি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। তাই টেক্সটাইল খাতে পুনরায় ১৫% করহার নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া উৎসে কর (TDS) হার যৌক্তিক করা, ভ্যাট ব্যবস্থার সরলীকরণ, একাধিক ভ্যাট হার কমিয়ে আনা এবং দ্রুত ভ্যাট রিফান্ড নিশ্চিত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
সংগঠনটি আরও জানায়, আইটি, ফার্মাসিউটিক্যালস, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও রপ্তানিমুখী খাতগুলোতে বিশেষ নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন, যাতে উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং শিল্পের বহুমুখীকরণ সম্ভব হয়।
জেবিসিসিআই মনে করে, বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতির ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘন ঘন নীতির পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দেয়। তাই একটি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতিমালা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
একই সঙ্গে সরকারকে রাজস্ব বাড়াতে করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল কর ব্যবস্থাপনা এবং কর প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, তাদের এসব সুপারিশ আসন্ন জাতীয় বাজেট প্রণয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।