দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় চলমান ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট ও অস্বাভাবিক লোডশেডিংয়ে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অসহনীয় গরমের মধ্যে দিনে-রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, চলমান এসএসসি পরীক্ষা সামনে রেখে শিক্ষার্থীরা পড়েছেন মারাত্মক অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি কেবল সাময়িক সংকট, নাকি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনারই ফল?
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যুতের ঘনঘন বিচ্ছিন্নতায় ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় ভেঙে পড়ার পথে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানপাট আগেভাগেই বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। উৎপাদন ও সেবা খাতে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
অন্যদিকে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জরুরি সেবা কেন্দ্রগুলোতেও বিদ্যুৎ সংকট মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বাসা-বাড়িতে ফ্রিজে রাখা খাদ্য নষ্ট হচ্ছে, শিশু ও বয়স্করা গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দাউদকান্দি সাব-জোনাল অফিসের জিএম মোখলেছুর রহমান বিদ্যুৎ ঘাটতির কথা স্বীকার করলেও প্রকৃত সরবরাহ পরিস্থিতি জানাতে ‘উপরের নিষেধাজ্ঞা’র অজুহাত দিয়েছেন—যা জনমনে আরও সন্দেহ ও ক্ষোভ বাড়িয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব কি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে—এ প্রশ্ন এখন সর্বত্র।
দেশে বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের ভুল পরিকল্পনা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং অগ্রাধিকারহীন নীতির ফলেই এ ধরনের সংকট ঘন ঘন ফিরে আসছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে দায় এড়ানোর সংস্কৃতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি—অবিলম্বে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় দাউদকান্দির এই সংকট কেবল একটি উপজেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সারাদেশে বৃহত্তর সংকটের পূর্বাভাস হয়ে উঠতে পারে।