নিজস্ব প্রতিবেদক : যে সময়ে দেশের কারিগরি শিক্ষা খাত অবহেলা, সীমিত বরাদ্দ ও নীতিগত অসংগতির কারণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি থেকে পিছিয়ে রয়েছে, ঠিক সে সময় গজারিয়ার একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে প্রমাণ করলেন—যোগ্য নেতৃত্ব ও পেশাদারিত্ব থাকলে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সাফল্য সম্ভব।
মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চীফ ইন্সট্রাক্টর (টেক) জনাব জেসমিন সুলতানা জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষক (কারিগরি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই অর্জন শুধু একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি গজারিয়া উপজেলা তথা দেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও নীতিগত বার্তা বহন করে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে যে তত্ত্বনির্ভর ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক সংস্কৃতি বিরাজ করছে, তার বাইরে গিয়ে জেসমিন সুলতানা দক্ষতা উন্নয়ন, বাস্তবমুখী পাঠদান ও কর্মসংস্থানভিত্তিক কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি কার্যকর মডেল উপস্থাপন করেছেন। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক শৃঙ্খলা, পাঠদানের মান ও শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে—যা জাতীয় স্বীকৃতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়ভাবেও স্বীকৃত হলো।
গজারিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জাকির হোসেন যথার্থভাবেই মন্তব্য করেছেন যে,
“জেসমিন সুলতানার এই অর্জন গজারিয়ার শিক্ষা পরিবারের সম্মিলিত সাফল্য।”
বাস্তবে এটি আরও বড় কিছু—এটি প্রমাণ করে যে মাঠপর্যায়ের শিক্ষকরাই কারিগরি শিক্ষা সংস্কারের মূল চালিকাশক্তি হতে পারেন, যদি রাষ্ট্রীয় নীতিতে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও ক্ষমতায়ন করা হয়।
আজ যখন তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, তখন জেসমিন সুলতানার মতো শিক্ষকেরা দেখিয়ে দিচ্ছেন—কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নই পারে বেকারত্ব হ্রাস ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের পথ সুগম করতে। তার এই স্বীকৃতি ভবিষ্যতে কারিগরি শিক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষক প্রশিক্ষণে রাষ্ট্রকে আরও দায়বদ্ধ করবে—এমন প্রত্যাশাই এখন শিক্ষানুরাগীদের।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা পরিবারসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিনন্দন এই বার্তাই দেয়—গজারিয়া আর কেবল একটি উপজেলা নয়, বরং কারিগরি শিক্ষায় একটি উদাহরণ হয়ে উঠছে।
জাতীয় পর্যায়ে জেসমিন সুলতানার এই সম্মাননা প্রমাণ করে, সততা, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধ যদি নীতিগত স্বীকৃতি পায়, তবে কারিগরি শিক্ষাই হতে পারে দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক হাতিয়ার।