এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল : বিএনপির ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে প্রস্তাবিত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড—এই দুই সামাজিক ও উৎপাদনমুখী উদ্যোগের অর্থায়ন কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। তথাকথিত “নতুন রাজনীতির” ব্যানারে আবির্ভূত এক দলের প্রধান নেতা প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য দিয়েছেন, যা বাস্তবতা, অর্থনৈতিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় বাজেট ব্যবস্থার ন্যূনতম ধারণাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিএনপির ইশতেহার কোনো অলীক কল্পনা নয়। এটি রাষ্ট্রীয় বাজেটের পুনর্বিন্যাস, অপচয় রোধ, দুর্নীতি বন্ধ, কালো টাকা সাদা করার সংস্কৃতি উচ্ছেদ এবং উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুস্পষ্ট রূপরেখার ওপর দাঁড়িয়ে। ফ্যামিলি কার্ড সরাসরি দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ন্যূনতম খাদ্য ও জীবনযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে; আর কৃষি কার্ড কৃষকের উৎপাদন খরচ কমিয়ে খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার করবে। উন্নয়নশীল বিশ্বে এ ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নতুন নয়—নতুন কেবল সেগুলোকে বাস্তবায়নের রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, যিনি আজ এসব প্রশ্ন তুলছেন, তিনি নিজেই এক অস্বাভাবিক রাজনৈতিক উত্থানের প্রতীক। ইতিহাস সাক্ষী—গণতন্ত্রবিরোধী শাসনের পতন না ঘটলে আজ তিনি হয়তো চাকরির আবেদনপত্র হাতে বিভিন্ন অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরতেন। রাষ্ট্রক্ষমতার পৃষ্ঠপোষকতায়, নির্দিষ্ট ব্যক্তির আশীর্বাদে জন্ম নেওয়া এক নবজাতক রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে আজ তিনি রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত, “প্রধান দল” হিসেবে স্বীকৃত—এ এক বিস্ময়কর বাস্তবতা।
রাজনীতিতে মতভেদ থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অজ্ঞতা, কটাক্ষ আর বিভ্রান্তি দিয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে হেয় করা দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। রাষ্ট্রীয় সম্মান পেতে হলে আগে রাষ্ট্রের অর্থনীতি, বাজেট কাঠামো ও জনকল্যাণমূলক নীতির ন্যূনতম বোঝাপড়া থাকা জরুরি।
বাংলাদেশের মানুষ আজ ভাতা-নির্ভরতা নয়, চায় ন্যায্য অধিকার, উৎপাদন বৃদ্ধি ও সম্মানজনক জীবন। বিএনপির ইশতেহার সেই পথরেখাই দেখায়। প্রশ্ন তুলুন—কিন্তু তথ্য, যুক্তি ও দায়িত্ববোধের আলোকে। নচেৎ ইতিহাসই বিচার করবে, কে বাস্তবতার পক্ষে আর কে কেবল আশীর্বাদের রাজনীতিতে ভর করে উচ্চকণ্ঠ।