নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ৫ জুন : রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে বন্ধুরাষ্ট্র তুরস্কের আরও সক্রিয় ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা ও শিল্পখাতে তুরস্কের বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
শুক্রবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া বৈঠকে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলের নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খানসহ দলের শীর্ষ নেতারা।
বৈঠক শেষে ডা. শফিকুর রহমান তুরস্ককে বাংলাদেশের ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশটি সবসময় বাংলাদেশের পাশে থেকেছে। তিনি জানান, রোহিঙ্গা সংকট নিরসন এবং এর স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে তুরস্কের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
জামায়াত আমির জানান, দেশের চামড়া, পাট ও তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়ন, পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষা খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও তুরস্ক সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমসাময়িক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে আগামী দিনে বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।