যুক্তরাজ্য থেকে আনা চালানে মিলেছে ‘ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম’; ভিন্ন তথ্য দিয়ে পাঠানোর অভিযোগ
বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট :
বেলজিয়ামের লিজ বিমানবন্দরে ইসরায়েলের উদ্দেশ্যে পাঠানোর জন্য আনা সামরিক যন্ত্রাংশের দুটি চালান জব্দ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গত ২৪ মার্চ চালান দুটি জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Middle East Eye।
এর আগে ব্রিটিশ অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্ম Declassified UK, বেলজিয়ামের এনজিও Vredesactie, আইরিশ সংবাদমাধ্যম The Ditch এবং Palestine Youth Movement যৌথভাবে বেলজিয়াম সরকারকে এসব চালান সম্পর্কে সতর্ক করেছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বেলজিয়ামে ইসরায়েলগামী সামরিক সরঞ্জামবাহী বিমানের অবতরণ বা আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতেই চালানগুলো জব্দ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট এক প্রকৌশলীর বরাতে জানা গেছে, তল্লাশিতে চালান থেকে ‘ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম’ এবং সামরিক বিমানের খুচরা যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিক কাগজপত্রে এগুলোকে ‘সাধারণ বিমানের যন্ত্রাংশ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
ঘটনার পর বেলজিয়াম সরকার তদন্ত শুরু করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর নাম প্রকাশে অনাগ্রহ দেখিয়েছে তারা। এদিকে বেলজিয়ামের ওয়্যালুন আঞ্চলিক সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যারোস্পেস কোম্পানি Moog Inc.-এর যুক্তরাজ্য কারখানার সঙ্গে এই চালানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, এই কোম্পানি এম-৩৪৬ প্রশিক্ষণ বিমানের জন্য ‘অ্যাকচুয়েটর’ তৈরি করে, যা ইসরায়েলি পাইলটদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়। গত ডিসেম্বরেও একই কারখানার পোস্টকোড ব্যবহার করে বেলজিয়ামের মাধ্যমে ইসরায়েলে অনুরূপ চালান পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, চালানগুলো যুক্তরাজ্যের ‘ওপেন ইন্ডিভিজুয়াল এক্সপোর্ট লাইসেন্স’-এর আওতায় পাঠানো হয়েছিল। সেখানে সামরিক যন্ত্রাংশকে ‘সাধারণ বিমান ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
আরও জানা গেছে, যুক্তরাজ্য থেকে অন্তত ১৭টি চালান বেলজিয়ামের লিজ বিমানবন্দরের মাধ্যমে ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে। তবে এসব চালানের ক্ষেত্রে কোনো ট্রানজিট লাইসেন্স নেওয়া হয়নি, যা বেলজিয়ামের আইনে বাধ্যতামূলক।
বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে লাইসেন্সের আবেদন করা হলেও তা বাতিল করা হতো।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্য সরকার ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র রপ্তানির ৩৫০টি লাইসেন্সের মধ্যে ৩০টি স্থগিত করে। গাজায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।