দুর্নীতি, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ হারানো থেকে শুরু করে আই-প্যাক সংকট—বিশ্লেষণে উঠে এলো বড় কারণগুলো
বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট :
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস-এর বর্তমান অবস্থান নিয়ে। ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, টানা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর দলটি এখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে।
বিশ্লেষণে মোট ৮টি প্রধান কারণ তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলো দলটির জনপ্রিয়তা ও শক্তি কমার পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রথমত, দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনে তৈরি হয়েছে প্রবল জনঅসন্তোষ। স্থানীয় পর্যায়ে সিন্ডিকেট, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বৈষম্যের অভিযোগ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়িয়েছে।
দ্বিতীয়ত, বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ দলটির ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত হেনেছে। শিক্ষক নিয়োগ, রেশন ও বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির ঘটনায় একাধিক নেতা গ্রেপ্তার হওয়ায় জনমনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
তৃতীয়ত, ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভুয়া ভোটার বাদ পড়ায় তৃণমূলের নির্বাচনী সুবিধা কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চতুর্থত, সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগে বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি প্রচারণা চালিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে।
পঞ্চমত, নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপে প্রশাসনের উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে নির্বাচনকালে পুলিশ ও প্রশাসন আগের মতো দলীয় প্রভাবাধীন ছিল না।
ষষ্ঠত, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া উপস্থিতিতে নির্বাচনী সহিংসতা কমে যায়, যা বিরোধীদের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করে।
সপ্তমত, শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের ফলে ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছেন, ফলে ‘ভোট দখল’ কৌশল কার্যকর হয়নি।
অষ্টম ও শেষ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে Indian Political Action Committee বা আই-প্যাক সংকট। নির্বাচনের ঠিক আগে এই পরামর্শদাতা সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তৃণমূলের কৌশলগত প্রস্তুতিতে বড় ধাক্কা লাগে।
সব মিলিয়ে, বিশ্লেষকদের মতে—এই সব কারণ একত্রে তৃণমূলের রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করে তুলেছে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।