ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পতিত সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে তাদেরকে সদলবলে এমনভাবে পালিয়ে যেতে হয়েছে যে ইচ্ছে করলেও আর তারা এখনই ফিরতে পারছে না। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের পতন এটা প্রমাণ করেছে, ধমকিয়ে ও পিটিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে ভালো কাজের মধ্য দিয়ে, জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি সেটা চায় না, বিএনপি চায়, সুন্দর সুস্থ্য সহনশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, উদার গণতন্ত্র আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই । আমরা সমস্ত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের কর্মকাণ্ড করতে দিতে চাই, জনগণের সামনে তাদের যেতে দিতে চাই, নির্বাধে তারা তাদের বক্তব্য দিক সেটা চাই। এর মধ্যে জনগণ ঠিক করবেন, তারা কাকে চান ।
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লী উপজেলা পরিষদ-এর অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে জনগণ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছেন, তারেক রহমানের প্রতি আস্থা রেখেছেন। তাই বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে, তাদেরকে জনগণের আস্থার প্রতিদান দিতে হবে বলে
এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ২০১৮সহ আগের নির্বাচনগুলোতে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। কিন্তু এবারের নির্বাচনে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছে। এ নির্বাচনে দেশের জনগণ বিএনপির উপর আস্থা রেখেছিল। দেশের জনগণ তারেক রহমানের উপরে আস্থা রেখেছিল।
তিনি আরো বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমাদের স্বাধীনতাকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল কিন্তু এখন আমরা সে সময় পার করে এসেছি। এখন আমরা বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারি। তারা চেয়েছিল ধমকিয়ে ও পিটিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে। কিন্তু ধমকিয়ে ও পিটিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না।
মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি বলেন, গত নির্বাচনের সময় একটা রাজনৈতিক দল এমন একটা অপপ্রচারের আবহাওয়া সৃষ্টি করেছিল, যেন বিএনপি শেষ হয়ে গেছে, তারেক রহমান নাই হয়ে গেছেন। কিন্তু সব গুজব মিথ্যা প্রমাণ করে জন সাধারণ বিএনপিকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজয়ী করেছে। তিনি বিগত পতিত সরকারের অপকর্ম ও গণতন্ত্র ধ্বংসের বিষয় তুলে ধরে বলেন, তারা দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে, ব্যাংক রিজার্ভ খালি করে রেখে গেছে, অর্থনীতিকে দেউলিয়া করে রেখে গেছে। সেখান থেকে এই অর্থনীতিকে উন্নতির শেখড়ে নিতে আমাদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। এটা কোনো সহজ কাজ নয়।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমাদের ইতিহাস ভূলে গেলে চলবেনা। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, ২৪ এর গণ অভ্যুত্থান কোনটিই ভূলে যাওয়ার মতো নয়। কারণ এগুলোর মধ্য দিয়েই কিন্তু আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।
শিক্ষা নিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের ছেলেমেয়েদের সাধারণ শিক্ষার দিকে গুরুত্ব না দিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিতে শিক্ষা দিন। সাধারণ শিক্ষায় এমএ পাশ করেও এখন চাকরি পাওয়া যায় না।
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ক্ষমতায় এসেছি মানে আপনাদের দায়িত্ব আরো বেড়ে গিয়েছে। আপনারা দৃষ্টান্তমূলক কাজ করুন। ভালো কাজের মধ্য দিয়ে জনগণের নিকট আস্থা অর্জন করুন। তাহলে সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী হবে।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। সরকারের বয়স মাত্র তিন মাস। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলার উন্নয়নে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে রুহিয়া ও ভূলীকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ঠাকুরগাঁওবাসীর বহুল প্রত্যাশিত মেডিকেল কলেজ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পরিত্যক্ত বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেমন মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরের উন্নয়নসহ নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ অন্যান্যরা।
জাকির মোস্তাফিজ মিলু