গাইবান্ধা থেকে মোঃ আবু জাফর মন্ডল : গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় রিপন মিয়া (৩০) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় তার দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে হার মানেন তিনি। এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় পরিবার-পরিজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত রিপন মিয়া গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ধুনদিয়া গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন পরিশ্রমী ও ভদ্র যুবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং বন্ধু-বান্ধবদের মাঝে গভীর শোক ও বেদনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে বোনারপাড়া রেলস্টেশন সংলগ্ন রেললাইনের পাশে অবস্থানকালে একটি চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন রিপন মিয়া। ট্রেনের আঘাতে তার দুই পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতা করে।
প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, রংপুরে নেওয়ার পথে শঠিবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে রিপন মিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যদের একজন হওয়ায় তার মৃত্যু পরিবারটির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা রেললাইনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বোনারপাড়া রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় প্রায়ই মানুষজন রেললাইন পারাপার করে থাকেন। সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নত করা গেলে এমন দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। রিপন মিয়া রেললাইনের ওপর ছিলেন নাকি পারাপারের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য মেলেনি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে পরিবারের জন্য সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
রেলপথে চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরে স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, সামান্য অসাবধানতাই কখনো কখনো কেড়ে নিতে পারে একটি মূল্যবান জীবন। রিপন মিয়ার এই মর্মান্তিক মৃত্যু সেই কঠিন বাস্তবতারই আরেকটি বেদনাদায়ক উদাহরণ হয়ে থাকল।