বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট : আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ফুটবলের আইনপ্রণেতা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)। নতুন নিয়মগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬-২৭ মৌসুম থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে এর প্রয়োগ দেখা যাবে।
ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজ কলিনা জানিয়েছেন, বর্ণবাদ ও বৈষম্য রোধ, সময় অপচয় কমানো এবং খেলার গতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এসব যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালে কোনো উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে খেলোয়াড় যদি হাত, বাহু বা জার্সি দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষকে আপত্তিকর বা বর্ণবাদী মন্তব্য করেন, তাহলে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হবে। তবে স্বাভাবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপচারিতার ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
এছাড়া রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে কোনো খেলোয়াড় মাঠ ছেড়ে চলে গেলে তাকে তাৎক্ষণিক লাল কার্ড দেখানো হবে। কোনো কোচ বা দলের কর্মকর্তা খেলোয়াড়দের মাঠ ত্যাগে উৎসাহিত করলে তারাও একই শাস্তির মুখে পড়বেন। এ ধরনের ঘটনায় ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে প্রতিপক্ষ দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।
সময় নষ্টের প্রবণতা ঠেকাতে থ্রো-ইন ও গোল-কিক নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন ৫ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন চালু করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে থ্রো-ইন না নিলে বলের দখল চলে যাবে প্রতিপক্ষের কাছে। আর গোলরক্ষক সময়মতো গোল-কিক নিতে ব্যর্থ হলে প্রতিপক্ষ দল পাবে কর্নার কিক।
বদলি খেলোয়াড় নামানোর ক্ষেত্রেও এসেছে কঠোরতা। ফোর্থ অফিসিয়াল বোর্ড প্রদর্শনের পর মাঠ ছাড়তে যাওয়া খেলোয়াড়কে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে নিকটতম বাউন্ডারি লাইন দিয়ে মাঠ ত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় তার পরিবর্তে নামতে যাওয়া খেলোয়াড়কে এক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে।
চোটপ্রাপ্ত আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের চিকিৎসার পর তাকে বাধ্যতামূলকভাবে এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে গোলরক্ষক, মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত খেলোয়াড় কিংবা বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে এই নিয়ম শিথিল থাকবে।
ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো, ভুলভাবে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড প্রদান কিংবা ভুল কর্নার কিকের সিদ্ধান্ত সংশোধনের জন্য ভিএআর ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া কর্নার বা ফ্রি-কিকের আগে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের ফাউল শনাক্ত করতেও ভিএআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে দুই অর্ধে বাধ্যতামূলকভাবে তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক রাখা হবে। সাধারণত প্রতি অর্ধের ২২ মিনিটের কাছাকাছি সময়ে এই বিরতি দেওয়া হবে, যাতে খেলোয়াড়রা পর্যাপ্ত পানি পান করতে পারেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, গোলরক্ষক চিকিৎসা নেওয়ার সময় অন্য খেলোয়াড়রা কোচের কাছ থেকে কৌশলগত নির্দেশনা নিতে সাইডলাইনে যেতে পারবেন না। তাদের মাঠের ভেতরেই অবস্থান করতে হবে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এসব নিয়ম খেলার শৃঙ্খলা বৃদ্ধি, সময় অপচয় কমানো এবং ম্যাচ পরিচালনায় আরও স্বচ্ছতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।