শাব্বির আহমদ, স্টাফ রিপোর্টার খুলনা : খুলনার ফুলতলা উপজেলার তরতীপুর গ্রামে তিন বছরের এক অবুঝ শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার এক জঘন্য ও ধিক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে। লম্পট ও পাশবিক মানসিকতাসম্পন্ন এই অভিযুক্তের নাম আলম। সে স্থানীয় সুপার জুট মিলের কর্মচারী এবং ফুলতলা এম. এম. কলেজের পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, উত্তেজনা ও নিন্দার ঝড় বইছে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী অবিলম্বে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু আনিকার (৩) পিতা সবুজ ঘটনার দিন শিশুটিকে একা পেয়ে লম্পট আলম তার ওপর পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। অবুঝ শিশুটির কান্নাকাটি ও চিৎকারে টের পেয়ে বিষয়টি প্রকাশ পায়।
এই জঘন্যতম ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিশু আনিকার মা। বুকফাটা আর্তনাদ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার তিন বছরের অবুঝ ও নিষ্পাপ শিশুর ওপর যে হাত দিতে পেরেছে, সে পৈশাচিক নরপশু। এই সমাজের বুকে এমন অপরাধীর বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, এই ধর্ষকের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয় এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা হয়।” তিনি অপরাধীর প্রতি তীব্র ঘৃণা উগরে দিয়ে অবিলম্বে তাকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
এদিকে তরতীপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একটি তিন বছরের শিশু যে কি না ভালো-মন্দ কিছুই বোঝে না, তার ওপর এমন পাশবিক চেষ্টা সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের চরম সীমা নির্দেশ করে। এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে যদি পুলিশ প্রশাসন এই জুট মিল কর্মচারীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ব্যবস্থা না করে, তবে তারা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবের তোয়াক্কা না করে এই পৈশাচিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং অভিযুক্ত আলমকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করতে হবে।
একটি সভ্য সমাজে এমন জঘন্য অপরাধের কোনো স্থান হতে পারে না। শিশু আনিকার পরিবার এবং সমগ্র ফুলতলাবাসী এখন শুধু একটিই দাবি তুলছেন—লম্পট আলমের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তি, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো নিষ্পাপ শিশুর দিকে কোনো অপরাধী এভাবে চোখ তুলে তাকানোর সাহস না পায়।