বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট : ইসলামী বর্ষপঞ্জির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ মাস জিলহজ। বিশেষ করে এ মাসের প্রথম ১০ দিনকে ইসলামে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জিলহজের প্রথম দশ দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে অন্য সময়ের আমলের চেয়ে অধিক প্রিয়।
এই বরকতময় দিনগুলোর অন্যতম হলো ৯ জিলহজ বা ইয়াওমে আরাফাহ। এদিন হজযাত্রীরা আরাফার ময়দানে অবস্থান করেন। প্রতিবছর এই দিনকে ঘিরে মুসলিম বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—আরাফার রোজা কি নিজ দেশের চাঁদ অনুযায়ী পালন করা হবে, নাকি সৌদি আরবে হাজিদের আরাফায় অবস্থানের দিন অনুযায়ী?
হাদিসে আরাফার রোজার ব্যাপারে বিশেষ ফজিলতের কথা উল্লেখ রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আরাফার দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।” (সহিহ মুসলিম)
ফিকহি গবেষণায় দেখা যায়, চার মাযহাবের অধিকাংশ আলেম স্থানীয় চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা ও ঈদের সময় নির্ধারণকে গ্রহণযোগ্য মনে করেন। হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাযহাবের বিশিষ্ট ফকিহরা বিভিন্ন অঞ্চলে চাঁদ দেখার পার্থক্যকে শরিয়তসম্মত বলে উল্লেখ করেছেন।
ইমাম নববী (রহ.) ও শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা (রহ.)-সহ বহু আলেমের মতে, ভৌগোলিক অবস্থানভেদে চাঁদ উদয়ের সময় ভিন্ন হওয়া স্বাভাবিক এবং প্রতিটি অঞ্চলের জন্য তাদের নিজস্ব চাঁদ দেখার বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
সমসাময়িক যুগের প্রখ্যাত আলেম শাইখ আবদুল আজিজ ইবনে বায (রহ.) ও শাইখ মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-উসাইমিন (রহ.)-ও স্থানীয় চাঁদের ভিত্তিতে আরাফার রোজা পালনের পক্ষে মত দিয়েছেন।
তবে কিছু আলেমের মতে, যেহেতু ইয়াওমে আরাফাহর মূল সম্পর্ক আরাফার ময়দানে হাজিদের অবস্থানের সঙ্গে, তাই সৌদি আরবে যেদিন হাজিরা আরাফায় অবস্থান করবেন, সেদিনই রোজা রাখা অধিক উত্তম। যদিও অধিকাংশ ফকিহ এই মতকে তুলনামূলক সীমিত মত হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
বাংলাদেশের অধিকাংশ আলেম, মুফতি ও ইসলামি গবেষকের মত অনুযায়ী, দেশের ঘোষিত ৯ জিলহজেই আরাফার রোজা পালন করাই অধিক প্রচলিত ও গ্রহণযোগ্য আমল।
আলেমরা বলছেন, এ বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও মুসলিম উম্মাহর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা ও ঐক্য বজায় রাখা জরুরি। আরাফার রোজার মূল শিক্ষা হলো তাকওয়া, তওবা, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা।