বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট : ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কেনার অভিযোগে চীনের একটি বড় তেল শোধনাগারের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, চীনের হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল (ডালিয়ান) ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের অন্যতম বড় ক্রেতা হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় শুধু রিফাইনারিই নয়, ইরানের তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর সঙ্গে জড়িত প্রায় ৪০টি জাহাজ ও শিপিং কোম্পানিকেও টার্গেট করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক বাজারে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল রপ্তানি করছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন চাপ সত্ত্বেও ইরানের তেলের প্রধান বাজার হিসেবে এখনো চীনই শীর্ষে রয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির মোট তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি চীন কিনেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সাধারণত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মার্কিন সম্পদ জব্দ এবং তাদের সঙ্গে মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে কার্যকর করা হয়। এতে বড় কিছু চীনা রিফাইনারি ইরানি তেল কেনা কমালেও ছোট স্বাধীন রিফাইনারিগুলো তুলনামূলকভাবে কম প্রভাবিত হয়েছে, কারণ তারা মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর কম নির্ভরশীল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের তেল বাণিজ্যে কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে হলে চীনা ব্যাংকগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপই হতে পারে সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ, কারণ এই ব্যাংকগুলোই মূল লেনদেন সহজ করে দেয়।
এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের তেল বিক্রির সঙ্গে জড়িত জাহাজ, মধ্যস্থতাকারী ও ক্রেতাদের ওপর নজরদারি ও চাপ আরও বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল প্রবাহ সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে পদক্ষেপ নেবে।
উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই এই নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি হলো, যা দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।