1. bdweb24@gmail.com : admin :
  2. nemadmin@bongonewsbd24.com : :
  3. him@bdsoftinc.info : Staff Reporter : Staff Reporter
  4. info@wp-security.org : Security_64733 :
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিলহজ্জ মাসের ফজিলত ও ইবাদত! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। খুলনার শিরোমণি বাজার বনিক সমিতির সভাপতির নামে ভুয়া, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত। ইউনূস সরকারের ব্যর্থতায় শিশু মৃত্যু বেড়েছে, অভিযোগ সিপিবির *ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসি’র ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা* দাউদকান্দি উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন, সদস্য সচিব রোমান খন্দকার তিস্তার তীর রক্ষা প্রকল্পে লুটপাটের মহোৎসব *প্রথম প্রান্তিকে ডিবিএইচ ফাইন্যান্সের মুনাফা ২৬ শতাংশ বেড়েছে* উন্নয়নকাজের নামে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে বিপর্যস্ত ঢাকা চাঁদপুর সফর ঘিরে বিএনপির তৎপরতা জোরদার, ঐক্যবদ্ধ প্রস্তুতির আহ্বান

নিষেধাজ্ঞা মামলার মধ্যেই বাউন্ডারি নির্মাণ শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৩৩ বার দেখা হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: কাজল ইব্রাহিম

জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার ৭ নং সিধুলী ইউনিয়নের অন্তর্গত শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। আদালতে বিচারাধীন নিষেধাজ্ঞা মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল মোতালেব, সহকারী শিক্ষক আব্দুল হালিম এবং সরকার অনুমোদনবিহীন একটি অ্যাডহক কমিটি—যার সঙ্গে স্থানীয়ভাবে শফিকুল ইসলামের সক্রিয় সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে—তারা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক বাউন্ডারি নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে—কোন আইনগত ক্ষমতায়, কোন বৈধ কাগজের ভিত্তিতে এবং কার নির্দেশে এই দখল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে?

সংশ্লিষ্ট দলিল ও রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা যায়, সিএস খতিয়ান নং ১৫০, মূল দাগ নং ৪০০ এবং পার্শ্ববর্তী দাগ নং ৩৭০, ৩৭১ ও ৩৭২-এর আওতাধীন জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন ঘাঠু শেখ ও হাটু শেখ গং। উক্ত জমির বিভিন্ন অংশ—৪৫ শতাংশ ও ১৫ শতাংশসহ—বিভিন্ন খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও প্রকৃত দখলদার ছিলেন হাটু শেখ ও তার অংশীদারগণ। পরবর্তীতে ৯২২৭ নং সাব-রেজিস্ট্রেশন দলিলের মাধ্যমে জমিটি মো. কান্দু শেখের নিকট বৈধভাবে হস্তান্তরিত হয়। কান্দু শেখের মৃত্যুর পর তার একমাত্র পুত্র জালাল উদ্দিন মন্ডল এবং কন্যাগণ—রহিতন, সহিতন, আফিরন ও তাফিরন—ওয়ারিশ হন এবং পরবর্তীতে ইদ্রিস আলী মন্ডল গংয়ের নিকট মালিকানা হস্তান্তর করেন। জালাল উদ্দিন মন্ডল দীর্ঘদিন প্রায় ৬০ শতাংশ জমি ভোগদখল করেন এবং তার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশগণ সেই দখল অব্যাহত রাখেন। তবে ১৫-০৪-২০১৮ তারিখে খারিজের জন্য ভূমি অফিসে গেলে আরএস ও বিএস রেকর্ডে নাম অনুপস্থিত থাকার অজুহাতে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়—এতে প্রশ্ন জাগে, মূল মালিকানার ধারাবাহিকতা কোথায় এবং কীভাবে বিঘ্নিত হলো?

পরবর্তীতে অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয় যে, আরএস খতিয়ান নং ৮৫৬ ও ৮৬১ অনুযায়ী দাগ নং ৫৯৬, ৫৯৭, ৫৯৮ ও ৫৯৯ জমি শ্যাম লাল মাল্লা ও সুরেশ চন্দ্র পালের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে, যা পূর্বের মালিকানার ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শ্যাম লাল মাল্লা ৪৭ শতাংশ জমি রেকর্ডভুক্ত হলেও ১৮-১২-১৯৬৪ তারিখে ২৮৯৬ নং দলিলের মাধ্যমে ৩৩ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নিকট বিক্রি করেন। পরবর্তীতে তার পুত্র ইন্দ্র লাল মাল্লা ২৪-১২-১৯৭৯ তারিখে ২০৩৫৫ নং দলিলের মাধ্যমে একই দাগে ১ একর ১.৪৬ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নিকট সাব-কবলা প্রদান করেন—যেখানে তার পিতার অবশিষ্ট জমি ছিল মাত্র ১৪ শতাংশ। অতিরিক্ত প্রায় ১৩২ শতাংশ জমি বিক্রির এই অসামঞ্জস্য কি সুস্পষ্ট জালিয়াতির ইঙ্গিত বহন করে না? অন্যদিকে, সুরেশ চন্দ্র পালের নামে রেকর্ডকৃত ১১ শতাংশ জমি ওয়ারিশবিহীন হওয়ায় খাসে পরিণত হয়ে কানু শেখের নিকট লিজ প্রদান করা হয়; বাকি ২ শতাংশ জমির কোনো সুস্পষ্ট রেকর্ড না থাকা প্রশাসনিক দুর্বলতাকেই সামনে আনে।

বিএস জরিপে খতিয়ান নং ৫ অনুযায়ী দাগ নং ৪০৮-এ ৪৩ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত হলেও একই এলাকার অন্যান্য অংশ—খতিয়ান নং ৫৮৮ অনুযায়ী ১২ শতাংশ আব্দুর রহমান এবং খতিয়ান নং ৯০২ অনুযায়ী ৫ শতাংশ কানু শেখের ওয়ারিশদের নামে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু সিএস খতিয়ান অনুযায়ী দাগ নং ৪০০-এর ৮১ শতাংশ জমির প্রকৃত মালিক হাটু শেখের ওয়ারিশগণ—মোহর মন্ডল, যহর মন্ডল ও কান্দু মন্ডল—হলেও সেই জমির উপর বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ করা হয়েছে—কোন বৈধ দলিলের ভিত্তিতে? এছাড়া দাগ নং ৩৭০, ৩৭১ ও ৩৭২-এর আওতাধীন প্রায় ৬০ শতাংশ খালি জমি, যা মামলা নং ১৬৮/২০১৮ (পরবর্তীতে ৭২৬/২০২১) হিসেবে আদালতে বিচারাধীন এবং নিষেধাজ্ঞা বলবৎ, সেই জমিতেই জোরপূর্বক বাউন্ডারি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ইদ্রিস আলী মন্ডল গংয়ের দাবি, তারা বাধা দিতে গেলে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে—এটি কি আইনের শাসনের সরাসরি লঙ্ঘন নয়?

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন—বিশেষত ভূমি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭ এবং দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী—কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করতে হলে যথাযথ নোটিশ, ক্ষতিপূরণ, শুনানি এবং বৈধ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক। আদালতের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা অবস্থায় সেখানে কোনো নির্মাণকাজ পরিচালনা করা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল। বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একটি জমি বিরোধ নয়; এটি আইনের শাসন, সম্পত্তির অধিকার এবং বিচার বিভাগের মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত। কোনো অনুমোদনহীন অ্যাডহক কমিটি বা ব্যক্তি কখনোই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বিকল্প হতে পারে না; তারা মালিকানাধীন জমিতে হস্তক্ষেপ করার ন্যূনতম আইনগত বৈধতা রাখে না। আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে জোরপূর্বক বাউন্ডারি নির্মাণ কেবল বেআইনি নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল। জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগত ক্ষতিপূরণ এবং মালিকের অধিকার সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক—এর ব্যত্যয় ঘটলে তা নিছক অনিয়ম নয়, বরং পরিকল্পিত দখলবাজি হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইদ্রিস আলী মন্ডল গং দেশের প্রশাসন, বিচার বিভাগ, ভূমি মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকল স্তরের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের নিকট জোরালোভাবে দাবি জানিয়েছেন—তাদের বৈধ মালিকানার জমি দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া হোক, জবরদখল ও হুমকির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং চলমান মামলার আলোকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে তিনি দেশের সর্বস্তরের জনগণের নিকটও ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট সকল দলিলপত্র, রেকর্ড ও প্রমাণাদি আদালত ও প্রশাসনের নিকট উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে ৮০ পৃষ্ঠারও অধিক বিস্তারিত ডকুমেন্ট প্রদান করা সম্ভব।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ

© ২০২৩ bongonewsbd24.com