মর্যাদা ও উৎসবের আবহে দাউদকান্দিতে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন, গণতান্ত্রিক চেতনা জোরদারের আহ্বান
স্টাফ রিপোর্টার, দাউদকান্দি, কুমিল্লা:
যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকতার এই আবহের মধ্যেও উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন—যা আজও সমান প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি বিশ্বরোড এলাকায় অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে এ শ্রদ্ধা নিবেদন পরিণত হয় এক প্রতীকী অঙ্গীকারে—স্বাধীনতার মূল চেতনা রক্ষার।
পরে দাউদকান্দি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, পুরস্কার বিতরণ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রাণচাঞ্চল্য যোগ করে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশের মানুষ এখনও পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার, সুশাসন ও অর্থনৈতিক ন্যায্যতার প্রত্যাশায় রয়েছে। তারা মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে তা বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত করাই এখন সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক রেদওয়ান ইসলাম, দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম আবদুল হালিমসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে।
স্বাধীনতা দিবসের এই আয়োজন নিঃসন্দেহে জাতির জন্য গর্বের। তবে প্রকৃত স্বাধীনতার অর্থ কেবল আনুষ্ঠানিক উদযাপনে সীমাবদ্ধ নয়—এটি মানুষের ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মধ্যেই প্রতিফলিত হয়। সেই লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক ঐক্য, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চা আজ সবচেয়ে বেশি জরুরি।