এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল, দাউদকান্দি, কুমিল্লা :
আসন্ন দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে মাঠে-ময়দানে জোর আলোচনা চলছে। বিশেষ করে দলটির স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী চার নেতার নাম এখন সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। তারা হলেন— কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, সাবেক দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সফল সাধারণ সম্পাদক এবং গৌরীপুর ইউনিয়নের চারবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, প্রবীণ রাজনীতিক ও সমাজসেবক আলহাজ আবুল হাসেম; দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক এম এ লতিফ ভূঁইয়া; বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সেক্রেটারি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক সাইফুল আলম ভূঁইয়া; এবং দাউদকান্দি উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব, পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মী রোমান খন্দকার।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন প্রশ্ন একটাই— বিএনপি শেষ পর্যন্ত কাকে সামনে এনে উপজেলা নির্বাচনের লড়াইকে জমিয়ে তুলবে?
তৃণমূলের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য চার প্রার্থীর প্রত্যেকেরই নিজস্ব বলয়, রাজনৈতিক অবস্থান এবং সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তবে দলীয় দুর্দিনে কার ভূমিকা কতটা কার্যকর ছিল— সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের আলোচনায়।
অনেক নেতাকর্মীর মতে, দলের কঠিন সময়ে যখন উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মতো সাহসী নেতৃত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন আবুল হাসেম জীবন বাজি রেখে নির্বাচনী মাঠে নেমেছিলেন। সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত জয় না এলেও তিনি শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়েননি। এই ধারাবাহিকতা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে এখনো তৃণমূলের একটি বড় অংশের কাছে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অন্যদিকে, এম এ লতিফ ভূঁইয়া-কেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে তার সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছে। সাংগঠনিক যোগাযোগ, আর্থিক সক্ষমতা এবং স্থানীয় নেটওয়ার্ক— এই তিন কারণে তিনিও আলোচনায় আছেন।
এদিকে, তরুণ ও ত্যাগী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে উঠে আসছে রোমান খন্দকারের নাম। স্থানীয় কর্মীদের ভাষ্য, দলের দুর্দিনে তিনি প্রায় ৩০টি মামলা মাথায় নিয়ে জেল খেটেছেন, তবুও মাঠ ছাড়েননি এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে যাননি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস বা আঁতাতে না জড়িয়ে তিনি তৃণমূলের অনেক তরুণ নেতাকর্মীর কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
এ ছাড়া সাইফুল আলম ভূঁইয়া-ও নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় রয়েছেন। ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হিসেবে তার পরিচিতি এবং বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ তাকে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রেখেছে। যদিও রাজনৈতিক মাঠে তার সক্রিয়তার মাত্রা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, দাউদকান্দির রাজনীতিতে এখন শুধু নাম নয়, অতীতের ভূমিকা, সাংগঠনিক ত্যাগ, জনসংযোগ এবং গ্রহণযোগ্যতা— সবকিছু মিলিয়েই সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বিচার করা হচ্ছে। বিশেষ করে দলের সংকটকালে কে কোথায় ছিলেন, আর কে মাঠে থেকে কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন— সেই হিসাবই এখন সবচেয়ে জোরালোভাবে সামনে আসছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিএনপির জন্য কেবল একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নয়; এটি হবে সংগঠনের ভেতরের শক্তি, প্রভাব এবং তৃণমূলভিত্তিক গ্রহণযোগ্যতারও এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মঞ্চ। ফলে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন বা সমর্থন যার দিকেই যাক না কেন, তাকে ঘিরে দলের ভেতরে-বাইরে বিস্তর হিসাব-নিকাশ চলবে— এটাই স্বাভাবিক।
সব মিলিয়ে, আসন্ন দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এখন বেশ জটিল কিন্তু উত্তপ্ত। চার সম্ভাব্য নেতার নাম ঘিরে আলোচনা যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে— এ লড়াই শুধু প্রার্থিতা নয়, বরং ত্যাগ, অবস্থান, প্রভাব এবং রাজনৈতিক বিশ্বস্ততারও লড়াই।