এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল : আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত লাখো শ্রমিকের বেতন-ভাতা ও আর্থিক নিরাপত্তা আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। একদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি—সব মিলিয়ে শিল্পখাত আজ কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।
বিজিএমইএ আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নেতারা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। একই সঙ্গে ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি, ডলারের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার চাপ শিল্পের স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে শ্রমিকদের জীবনে, যাদের ওপর নির্ভর করছে এই খাতের মূল ভিত্তি।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর নীতিমালা কতটা দৃশ্যমান? রাজনৈতিক অঙ্গনে শ্রমিক ইস্যু বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তব প্রয়োগে ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে শ্রমিকদের বেতন, ভাতা ও বোনাস সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা এখন শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি রাজনৈতিক অঙ্গীকারেরও পরীক্ষা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক অস্থিরতা বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পে নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। এমন প্রেক্ষাপটে কেবল ব্যবসায়ী বা মালিকপক্ষ নয়, সরকারেরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহ অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জ দ্রুত সমাধান না হলে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
অন্যদিকে, শ্রমিকদের দিক থেকেও চাপ বাড়ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং উৎসবের অতিরিক্ত খরচ তাদের জন্য পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ফলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে এখন সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি এই পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে শ্রমিক কল্যাণ ও শিল্প টেকসই উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য আনতে হবে। নচেৎ সংকট আরও গভীর হয়ে সামাজিক অস্থিরতার রূপ নিতে পারে—যা কোনো পক্ষের জন্যই কাম্য নয়।