মোজতবা খামেনির কঠোর অবস্থান; হামলা-পাল্টা হামলায় রক্তাক্ত অঞ্চল, নিহত ১৩০০+
বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট :
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়াতেই উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাঠানো উত্তেজনা কমানো ও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আগে পরাজয় স্বীকার ও নতি স্বীকার করতে হবে, তবেই শান্তি নিয়ে আলোচনা সম্ভব।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বৈদেশিক নীতি বৈঠকেই মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রতিশোধমূলক অবস্থান গ্রহণ করেন।
তিনি স্পষ্ট করে দেন, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে শুধু পরাজয় স্বীকারই নয়, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতেও হবে—এরপরই কেবল আলোচনার পথ খুলবে।
জানা গেছে, অন্তত দুটি দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এই শান্তি প্রস্তাব পৌঁছে দেয়। তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার কোনো নতুন ছবি বা ভিডিও প্রকাশ হয়নি।
কিছু ইরানি সূত্র দাবি করেছে, সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তিনি সামান্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, তিনি গুরুতরভাবে আহত। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই তার কঠোর বার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ২১ দিনের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হলে পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান চালায় ইসরায়েল।
যৌথ এই হামলার প্রথম ধাক্কায় নিহত হন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া দেশটির সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কয়েকজন কমান্ডারও প্রাণ হারান।
এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরান। টানা ১৮ দিনের এই হামলা-পাল্টা হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং তা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।