স্টাফ রিপোর্টার : দেশের খুচরা বাজারে অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান ACI Logistics Limited (Shwapno) (স্বপ্ন)-এ প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবিতে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা এসেছে। তবে এই পদক্ষেপকে ঘিরে কর্পোরেট জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির এক প্রেস নোটিশে জানানো হয়েছে, মিডিয়া অ্যান্ড পিআর ম্যানেজার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মিলু গত ৮ মার্চ ইমেইলের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে তার দায়িত্বকালীন সময়ে সম্ভাব্য আর্থিক অসংগতির অভিযোগ উঠে এলে বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, প্রতিষ্ঠানটি সবসময় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কর্পোরেট সুশাসনের নীতিতে অটল। তবে প্রশ্ন উঠেছে—একজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার আকস্মিক অন্তর্ধান এবং পরবর্তীতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসা কি কেবল ব্যক্তিগত ব্যর্থতা, নাকি ব্যবস্থাপনার তদারকির ঘাটতি?
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, এই ঘটনা আবারও তা সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে জনসংযোগের মতো স্পর্শকাতর বিভাগে দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, স্বপ্ন-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির পূর্বেই গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞাপন ও জনসংযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই যোগাযোগ করতে হবে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় অনুরোধ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ না করতে।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে বলে জানিয়েছে স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ। তবে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে কর্পোরেট খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নটি আবারও নতুন করে আলোচনায় উঠে এলো—যা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং পুরো বেসরকারি খাতের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।