নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা, ১২ মার্চ ২০২৬:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির Shafiqur Rahman বলেছেন, রাষ্ট্রপতির ‘তিন অপরাধের’ কারণেই তার ভাষণ বর্জন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এই সংসদ জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ছিলেন, তারা যেন এই সংসদে বক্তব্য রাখতে না পারেন— এমন অনুরোধ করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, রাষ্ট্রপতি Mohammed Shahabuddin তিনটি কারণে অপরাধী; তাই তার বক্তব্য এই মহান সংসদে শোনা সম্ভব নয়। প্রথমত, অতীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি কোনো অবস্থান নেননি। রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে সে সময় তিনি খুনের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বা কার্যকর ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সেই বক্তব্য অস্বীকার করেন। এতে জাতির সামনে তিনি ‘মিথ্যাবাদী’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন বলে দাবি করেন ডা. শফিকুর রহমান।
তৃতীয় অভিযোগ হিসেবে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংস্কার পরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্য—এই দুই ভূমিকায় দায়িত্ব পালনের বিষয়টি একটি অধ্যাদেশে উল্লেখ ছিল। কিন্তু গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের কথা থাকলেও রাষ্ট্রপতি তা করেননি।
তিনি আরও দাবি করেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও সেই অনুযায়ী উদ্যোগ না নেওয়ায় রাষ্ট্রপতি জনগণকে অসম্মান করেছেন।
এসব কারণেই তারা রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনতে রাজি নন বলে জানান জামায়াত আমির। একই সঙ্গে সরকারি দলকে ভাষণ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সংক্ষুব্ধ হয়ে সংসদ থেকে বের হয়ে এসেছি। ভবিষ্যতেও সংসদে কোনো অন্যায় হলে আমরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেব এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাব।”