1. bdweb24@gmail.com : admin :
  2. nemadmin@bongonewsbd24.com : :
  3. him@bdsoftinc.info : Staff Reporter : Staff Reporter
  4. info@wp-security.org : Security_64733 :
বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
*”ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬” ঠিক কতটা যুক্তিসঙ্গত?* ইরানে হামলা ‘অবৈধ’: ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে তীব্র নিন্দা উত্তর কোরিয়ার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন কাল, আজ ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় বৈঠক ঈদে বাবার জন্য পাঞ্জাবি আনার কথা ছিল রাকিবের; ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে প্রাণ হারালেন তিনি ও অনন্যা ওয়ার্ল্ড ওরাল হেলথ ডে উপলক্ষে বিএফডিএসের ইফতার ও দোয়া মাহফিল, স্বাস্থ্য ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ উন্মোচন ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণে সিদ্ধান্তহীনতায় জামায়াত, কাল সংসদীয় কমিটির বৈঠক ফুলস্কেল সংঘাতের পথে মধ্যপ্রাচ্য: কৌশলগত সংযম থেকে সরাসরি পাল্টা আক্রমণে ইরান পাঁচবিবিতে চেয়ারম্যান নাজমুলের পারিবারিক ইফতার মাহফিলে হাজারো রোজাদার উপস্থিত খাগড়াছড়িতে ভাতাভোগী আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ জাতীয় ছাত্রশক্তি ছাত্র সংগঠনের বরিশাল মহানগরের সদস্যসচিবের অসদাচরণ ও কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ

*”ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬” ঠিক কতটা যুক্তিসঙ্গত?*

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট: ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি ভূমির সুরক্ষার উদ্দেশ্য শিরোনামে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। অধ্যাদেশ নাম্বার ১২,২০২৬। অধ্যাদেশে যা বলা হয়েছে তা কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।
সমালোচকরা বলছেন ভূমি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করা ঠিক হয়নি। কেউ কেউ বলছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মধ্যে একটি গ্রুপ ছিল যারা জনস্বার্থের চেয়ে নিজের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ফায়দা লুটেছেন।
যারা এসব জনস্বার্থ বিরোধী কাজ করেছেন তাদের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর ইউনুস, আসিফ নজরুল ও রেজওয়ানা চৌধুরী নাম ইতিমধ্যেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। অনেকেই বলছেন তারা ছিলেন একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্য। তাদের কাজ ছিল একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করা। তারা সেটি না করে নিজেদের স্বার্থে অপ্রাসঙ্গিক সাবজেক্ট নিয়ে বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় করেছেন। এতে রাষ্ট্র ও জনগণের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
যেমন ভূমি হচ্ছে দেশের জনসাধারণের স্বার্থ সংশিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবতা যাচাই-বাছাই না করে এমন একটি বিষয়ে আধ্যাদেশ জারী করা ঠিক হয়নি। এই অধ্যাদেশের কারণে সমাজের সৃষ্টি হতে পারে সংঘাত। শুরু হতে পারে দাঙ্গা হাঙ্গামা। এসব সংঘাতে ঘটতে পারে ব্যাপক প্রাণহানী। বিনষ্ট হতে পারে সামাজিক স্বস্তি।
অভিযোগ উঠেছে, বাস্তবসম্মত ও বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড উপেক্ষা করে কেবল প্রথাগত কিছু নামের তালিকা দিয়ে কৃষিভূমি নির্ধারণ করায় সাধারণ কৃষক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তেমনি ব্যাহত হবে পরিকল্পিত উন্নয়ন। এই অধ্যাদেশের প্রধান অসংগতিগুলো আলোচনা করা হলো।
১. কৃষিভূমির সংজ্ঞায় অতিরিক্ত ব্যাপ্তি ও বিভ্রান্তি:
কৃষিভূমির মূল ধারণা হলো এমন জমি যা প্রধানত ফসল উৎপাদন, উদ্যানতত্ত্ব, পশুপালন বা মৎস্যচাষের মতো সরাসরি উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু প্রকাশিত গেজেটে এই সংজ্ঞাকে এতটাই বিস্তৃত করা হয়েছে যে, এতে এমন অনেক ভূমি ও অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যা বাস্তবে কৃষি উৎপাদনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। তালিকায় ভিটা, ভিটি, ডাঙ্গা, নার্সারি, রাস্তার পাশের এলাকা, ভাগাড়, এমনকি বসতবাড়ি সংলগ্ন পরিত্যক্ত জমিও কৃষিভূমি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই ঢালাও শ্রেণিবিন্যাস ভূমি ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিকল্পনায় গুরুতর বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
২. বসতভিটা যখন ‘কৃষি জমি’: কৃষকের ওপর নতুন খড়গ:
অধ্যাদেশটির সবচেয়ে বড় অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে এর আওতাভুক্ত ভূমির তালিকায়। এখানে নাল বা বিলান জমির পাশাপাশি ভিটা, ভিটি, ডাঙ্গা, এমনকি বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত জমি বা আবর্জনার ভাগাড়কেও কৃষিভূমি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
বাস্তবে কৃষকের থাকার ঘর বা বসতভিটা (ভিটি) কখনোই সরাসরি ফসল উৎপাদনের জমি নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষকের থাকার জায়গাকে যদি আইনিভাবে ‘কৃষি জমি’র সিল মেরে দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে নিজের জমিতে ঘর তোলা বা সংস্কারের ক্ষেত্রেও কৃষককে চরম আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হতে হবে। এটি কৃষকের মৌলিক অধিকারের ওপর এক ধরণের ‘অবিচার’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

৩. কৃষকের অধিকার বনাম আইনি জটিলতা:
বাস্তবে কৃষকের থাকার ঘর (ভিটি) বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের পুকুর সরাসরি ফসল উৎপাদনের জমি নয়; বরং এগুলো তার অস্তিত্ব ও আশ্রয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ভূমি গুলোকে আইনিভাবে কৃষি জমির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে ভবিষ্যতে নিজের ভিটায় ঘর তোলা, সংস্কার বা প্রয়োজনে ব্যবহারের ধরণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কৃষককে চরম আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হতে হবে। নিজের জমিতে সার্বভৌম অধিকার হারানোর এই ভয় কৃষককে কৃষিভিত্তিক জীবনযাপনে নিরুৎসাহিত করবে এবং নতুন প্রজন্মকে কৃষিপেশা থেকে বিমুখ করে তুলবে। তাই প্রকৃত উর্বর ফসলি জমি রক্ষার পাশাপাশি কৃষকের বসতভিটা ও ব্যক্তিগত স্থাপনাকে এই কঠোর সংজ্ঞার বাইরে রাখা জরুরি, অন্যথায় সুরক্ষার এই আইন কৃষকের জন্য আশীর্বাদের বদলে ‘আইনি জুলুম’ হিসেবেই গণ্য হবে।
৪. অস্পষ্ট সংজ্ঞার সুযোগে দুর্নীতির নতুন ক্ষেত্র: হয়রানির মুখে কৃষক:
“ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬-এ কৃষিভূমির ত্রুটিপূর্ণ ও অস্পষ্ট সংজ্ঞা মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতির এক বিশাল চারণভূমি তৈরি করতে পারে। যখন কৃষকের বসতভিটা, পুকুর বা নার্সারির মতো ব্যক্তিগত জমিকে ঢালাওভাবে ‘কৃষি জমি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তখন সেই জমির ব্যবহার বা সামান্য সংস্কারের জন্যও সাধারণ মানুষকে প্রশাসনিক অনুমতির গোলকধাঁধায় পড়তে হবে। আইনের এই অস্পষ্টতাকে পুঁজি করে একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় দালালচক্র তদারকির নামে সাধারণ কৃষকের ওপর হয়রানি ও উৎকোচ আদায়ের পাহাড় চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাবে। প্রভাবশালীরা অর্থের বিনিময়ে তাদের জমিকে আইনি মারপ্যাঁচ থেকে মুক্ত করে নিলেও, আইনি জটিলতা ও দুর্নীতির যাঁতাকলে পিষ্ট হতে হবে প্রান্তিক ভূমিমালিকদের। ফলে কৃষি রক্ষার এই মহৎ উদ্দেশ্যটি শেষ পর্যন্ত স্বচ্ছতার অভাবে সাধারণ মানুষের গলার কাঁটা এবং দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে।
৫. পরিবেশ ও উন্নয়নের দ্বন্দ্বে নতুন সংকট:
অধ্যাদেশে নদীর চরের জমি, বাঁধ বা রাস্তার ঢালকেও কৃষিভূমির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ এসব ভূমি প্রাকৃতিকভাবে অস্থিতিশীল এবং এগুলো পরিবেশগত সুরক্ষার (যেমন: বন্যা নিয়ন্ত্রণ বা জীববৈচিত্র্য রক্ষা) জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলোকে ঢালাওভাবে কৃষিভূমি বলায় পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নীতিতে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এতে একদিকে যেমন প্রকৃত উর্বর কৃষিজমি রক্ষা পাবে না, অন্যদিকে অনুৎপাদনশীল জমি নিয়ে আইনি জটিলতা বাড়বে।
৬. নগর উন্নয়ন ও অবকাঠামোয় প্রতিবন্ধকতা:
যদি প্রায় সব ধরনের খোলা বা অনির্দিষ্ট জমিকে কৃষিভূমি হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে পরিকল্পিত শহর সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন বা সরকারি বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলো অযৌক্তিক বাধার মুখে পড়বে। অন্যদিকে, নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, প্রায় সব ধরনের খোলা জমিকে কৃষিভূমি হিসেবে চিহ্নিত করলে শহরের পরিকল্পিত সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন ও বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলো অযৌক্তিক বাধার মুখে পড়বে।
৭. ফসলের সংখ্যার ভিত্তিতে সংজ্ঞায়নের সীমাবদ্ধতা:
গেজেটে এক-ফসলি, দুই-ফসলি বা তিন-ফসলি শ্রেণিবিন্যাসকে কৃষিভূমির ‘মৌলিক সংজ্ঞার’ অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু পদ্ধতিগতভাবে এটি সঠিক নয়। ফসলের সংখ্যা হলো জমির উৎপাদনশীলতা বা ব্যবহারের একটি বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতি মাত্র, এটি ভূমির মৌলিক সংজ্ঞা হতে পারে না। ভূমির ‘স্থায়ী বৈশিষ্ট্য আর সাময়িক ব্যবহারিক বৈশিষ্ট্যকে এক করে দেখা একটি পদ্ধতিগত ভুল।
৮. বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডের অনুপস্থিতি:
আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনায় কৃষিভূমি নির্ধারণের ক্ষেত্রে মাটির উর্বরতা, টপোগ্রাফি (ভূমির উচ্চতা), জলবায়ু, সেচ সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন সক্ষমতাকে (Land Capability) গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এই গেজেটে মাটির বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ বা সক্ষমতাকে তোয়াক্কা না করে কেবল ঐতিহ্যগত বা স্থানীয় কিছু নাম ব্যবহার করে ভূমি নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ বসতভিটার মাটি সাধারণত অনুর্বর থাকে, যা বৃহৎ পরিসরে কৃষিকাজের উপযোগী নয়।
৯. উদ্যানতত্ত্ব ও মাঠ ফসলের পার্থক্য:
সংজ্ঞাটিতে ‘উদ্যান ফসলি’ (ফল, ফুল, সবজি) এবং ‘মাঠ ফসলি’ (ধান, গম, ভুট্টা) জমিকে একই কাতারে রাখা হয়েছে। বাস্তবে এই দুটি কৃষি ব্যবস্থাপনার ভিন্ন ভিন্ন শাখা। এই দুই ধরনের জমিকে একইভাবে সংজ্ঞায়িত করলে কৃষি পরিসংখ্যান এবং উৎপাদন পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেবে।

পরিশেষে বলা যায় যে, কৃষিভূমির একটি সঠিক সংজ্ঞা হওয়া উচিত সংক্ষিপ্ত, বৈজ্ঞানিক এবং বাস্তবভিত্তিক। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ থাকা প্রয়োজন যে, যে ভূমি মূলত কৃষি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় এবং যার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য কৃষিকাজের উপযোগী, কেবল সেটিই কৃষিভূমি। বসতভিটা, অবকাঠামো বা নদীর চরকে ঢালাওভাবে এই সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা যৌক্তিক নয়। অতএব, টেকসই উন্নয়ন ও ভূমি ব্যবস্থাপনার স্বার্থে গেজেটে উল্লেখিত কৃষিভূমির এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ সংজ্ঞাটি দ্রুত সংশোধন করে একটি নীতিগত ও বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা প্রণয়ন করা একান্ত প্রয়োজন।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ

© ২০২৩ bongonewsbd24.com