নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণের যে দাবি দীর্ঘদিন ধরে উঠে আসছে, তারই একটি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়া তরুণ নেত্রী মানসুরা আক্তারের ক্ষেত্রে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ৩৬ প্রার্থীর মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ এই নেত্রীর বয়স মাত্র ৩১ বছর ৭ মাস—যা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন বার্তা বহন করে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি)-এ জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, মানসুরা আক্তারের নিজস্ব কোনো আয় নেই। তবে তার তিন লাখ টাকার সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে অস্থাবর সম্পদ হিসেবে ইলেকট্রনিকস পণ্য ও আসবাবপত্র, পাশাপাশি ৬ শতাংশ অকৃষি জমির মালিকানা। এই চিত্রটি দেশের তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা মানসুরা, যিনি ‘মানসুরা আলম’ নামেও পরিচিত, বর্তমানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আইন বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকেছেন।
তার রাজনৈতিক পথচলা সহজ ছিল না। ক্ষমতাসীন ছাত্ররাজনীতির সহিংসতার শিকার হয়ে একাধিকবার আহত হওয়ার পরও তিনি পিছু হটেননি। বরং ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণআন্দোলন—সবখানেই সক্রিয় উপস্থিতি রেখেছেন।
মানসুরার এই মনোনয়ন কেবল একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার একটি রাজনৈতিক বার্তা। প্রশ্ন উঠতেই পারে—এটি কি কেবল প্রতীকী, নাকি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ?
যা-ই হোক, ক্যাম্পাসের পরিচিত মুখ থেকে জাতীয় সংসদের সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে তার এই উত্তরণ এখন দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।