বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট : তেল আবিব / ওয়াশিংটন।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান হামলা নিয়ে ইসরাইলের অভ্যন্তরে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটির কিছু সিনিয়র কর্মকর্তা মনে করছেন, যুদ্ধ দ্রুত থামানোর সম্ভাব্য পথ বা ‘এক্সিট র্যাম্প’ খুঁজে বের করা দরকার, যাতে এই সংঘাত আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য আরও বড় ক্ষতির কারণ না হয়।
The Washington Post-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। হামলা থামানো বা চালিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর হাতেই রয়েছে। তবে তিনি এখনো “সম্পূর্ণ জয়” অর্জনের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি।
রোববার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিনিয়র ইসরাইলি কর্মকর্তা জানান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা ইতোমধ্যে তাদের প্রধান লক্ষ্যগুলোর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবশিষ্ট অংশ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার, অস্ত্র তৈরির কারখানা এবং সামরিক ও গোয়েন্দা নেতৃত্বের বড় অংশ ধ্বংসের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
তিনি বলেন, “অবশ্যই আমরা শাসন উৎখাত চাই, কিন্তু সেটিই একমাত্র সমাপ্তি নয়।” তার মতে, প্রধান সামরিক লক্ষ্যগুলো ধ্বংস হয়ে গেলে ইসরাইল তাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করেছে বলেই ধরা যেতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো কঠোর। শুরুতে Donald Trump ইরানের কিছু নমনীয় নেতার সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনার কথা বললেও পরে তিনি “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ”-এর দাবি তোলেন। অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu বলেছেন, তিনি এই সংঘাতকে “মোমেন্ট অফ ট্রুথ” পর্যন্ত এগিয়ে নিতে চান।
এদিকে ইরানে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। রোববার নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে Mojtaba Khamenei-এর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-এর ছেলে এবং তাকে কট্টরপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps-এর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানা গেছে।
ইসরাইলি কর্মকর্তাদের আরেকটি বড় উদ্বেগ হচ্ছে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব। উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “শাসন উৎখাত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া আমাদের স্বার্থে কি না, তা নিশ্চিত নই। কেউ অনির্দিষ্টকাল ধরে যুদ্ধের ময়দানে থাকতে চায় না।”
এছাড়া ইসরাইলের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকারীরা লেবাননে বড় স্থলঅভিযানের ঝুঁকি নিয়েও চিন্তিত। দেশটির উত্তর সীমান্তে Hezbollah-এর অবশিষ্ট শক্তি মোকাবিলায় সীমিত অভিযান চললেও বড় আকারের স্থলযুদ্ধের পরিকল্পনা নেই বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, লেবাননের প্রেসিডেন্ট Joseph Aoun ও প্রধানমন্ত্রী Nawaf Salam-সহ দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। দুই দলের মার্কিন রাজনীতিবিদদের মধ্যেই এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তহীন যুদ্ধে টেনে নিতে চাই না। ইসরাইল একটি নির্ভরযোগ্য মিত্র, বোঝা নয়।”
তবে প্রেসিডেন্ট Donald Trump এখনো ইরানের শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন। তিনি একটি “নতুন ইরান” গড়ার কথা বললেও সেই লক্ষ্য অর্জনের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা এখনো সামনে আসেনি।
সূত্র: The Washington Post