নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের কৃষি, সেচব্যবস্থা ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন গতিতে এগিয়ে নিতে সরকার আবারও শুরু করছে দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচি। দীর্ঘদিন পলি জমে বন্ধ হয়ে থাকা খালগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে জলাবদ্ধতা দূর, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, আগামী ১৬ মার্চ সারা দেশে একযোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরের সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের সূচনা করবেন।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর এলাকায় সাহাপাড়া খাল পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার জেদান আল মূসা।
মন্ত্রী বলেন, প্রায় সোয়া ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং কৃষিজমিতে সেচের পানি পৌঁছানো সহজ হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।
তিনি স্মরণ করেন জিয়াউর রহমান-এর ঐতিহাসিক খাল খনন আন্দোলনকে। মন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচিকে এক সময় জাতীয় আন্দোলনে পরিণত করেছিলেন। সেই আদর্শ ও স্বপ্নকে সামনে রেখেই বর্তমান সরকার আবারও এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বহু খাল ও নদীতে বছরের পর বছর পলি জমে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও অবৈধভাবে দোকানপাট ও ঘরবাড়ি নির্মাণ হয়েছে। এসব বাধা দূর করে জনগণের সহযোগিতায় খালগুলো পুনরুদ্ধার করা হবে।
তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, খননকাজে কোনো ধরনের দুর্নীতির প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পে যে মেগা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, সেসব অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এই কর্মসূচি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
মন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে শুধু জলাবদ্ধতা দূরই নয়, বরং খালেদা জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অসমাপ্ত উন্নয়ন ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথও সুগম হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে খাল ও নদী পুনঃখনন করা গেলে তা কৃষি, পরিবেশ ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দেশের খাদ্য উৎপাদনেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।