বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট : মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আট দিনের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না; বরং হামলা-পাল্টা হামলার মাত্রা আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের ওপর আরও ভয়ংকর হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে নতুন দফায় হামলা শুরু করেছে Iran।
এদিকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর বা Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বর্তমান তীব্রতার যুদ্ধ অন্তত ছয় মাস চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে তাদের।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজের বরাতে আইআরজিসির মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে এ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। তার এই বক্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও Israel-এর অভিযান অত্যন্ত সফল হয়েছে এবং তারা বড় ব্যবধানে জয় পাচ্ছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান এবং ইরানের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার ইঙ্গিত দেন। তবে এর জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো অবস্থাতেই আত্মসমর্পণ করবে না ইরান।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম দফার হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei ও তার পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে নিহত হন দেশটির সামরিক বাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারও। এর প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরান।
নতুন দফার হামলায় প্রথমবারের মতো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে হাইপারসনিক ‘ফাত্তাহ’ এবং ব্যালিস্টিক ‘এমাদ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের গতির পাঁচ গুণেরও বেশি গতিতে ছুটতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের তৈরি ‘ফাত্তাহ-২’ ক্ষেপণাস্ত্র আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে যুদ্ধের খরচ নিয়েও চাপে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে, যা দিন দিন আরও বাড়ছে। এই বিপুল ব্যয় নিয়ে মার্কিন জনগণের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে।
টানা হামলা-পাল্টা হামলায় ইতোমধ্যে পুরো মধ্যপ্রাচ্যই কার্যত এক ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এবং পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে থামবে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে উদ্বেগ।