নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সরকারি ছুটি আরও বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে সক্রিয় আলোচনা শুরু হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ছুটি সম্প্রসারণের প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
চলতি বছর সম্ভাব্য ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ১৯, ২০, ২২ ও ২৩ মার্চসহ বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। তবে নতুন প্রস্তাব অনুমোদন পেলে ২৪ ও ২৫ মার্চ অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত হতে পারে। এর সঙ্গে মহান স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ এবং পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা প্রায় ১০ দিনের দীর্ঘ অবকাশের সুযোগ পেতে পারেন।
সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল বলছে, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন ও চাপমুক্ত করতে ছুটি বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আড়ালে রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উৎসবকালীন জনসন্তুষ্টি নিশ্চিত করা, যানজট ও জনদুর্ভোগ কমানো এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দীর্ঘ ছুটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একইসঙ্গে জনমনে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছানোর বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে আসন্ন মন্ত্রিসভার বৈঠকে। সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হলে এবারের ঈদে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এটি হতে পারে সাম্প্রতিক সময়ের দীর্ঘতম ছুটির রেকর্ড।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের প্রশ্ন—জনস্বার্থের বাস্তব প্রয়োজন, নাকি উৎসবকে ঘিরে প্রশাসনিক স্বস্তির পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কৌশল? এখন নজর মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।