নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন–এর আসন্ন মেয়র নির্বাচনকে ঘিরে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন, “ঢাকা দক্ষিণ থেকে সিটি নির্বাচন করব ইনশাআল্লাহ।” তার এই ঘোষণায় দক্ষিণ ঢাকার রাজনীতিতে স্পষ্ট বার্তা গেছে—সরকারদলীয় শক্ত অবস্থান নিয়েই মাঠে নামতে চান তিনি।
অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া–ও মেয়র পদে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির পক্ষ থেকেই তাকে প্রার্থী করা হবে। ফলে দক্ষিণ ঢাকায় সম্ভাব্য প্রধান দুই প্রার্থীর মুখোমুখি লড়াই এখন সময়ের অপেক্ষা।
ইশরাক হোসেন বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৬ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি–এর প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান, যিনি পান ৫৫ হাজার ৬৯৭ ভোট। জাতীয় নির্বাচনে নিজের সাংগঠনিক শক্তি প্রমাণের পর এবার স্থানীয় সরকারে নেতৃত্বের পরীক্ষায় নামছেন তিনি।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। মেয়াদোত্তীর্ণ ও প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো সমন্বয় করে যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২২ সালের এক সরকারি আদেশ অনুযায়ী ঢাকাসহ দেশের চারটি সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ মন্ত্রী পদমর্যাদার সমান। ফলে এই নির্বাচন শুধু স্থানীয় প্রশাসনের নেতৃত্ব নির্ধারণই নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
দক্ষিণ ঢাকার নাগরিকরা এখন তাকিয়ে—কে পাবেন আস্থার ম্যান্ডেট? উন্নয়ন, সুশাসন ও নগর ব্যবস্থাপনায় কার্যকর রূপকল্প—এসব ইস্যুই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে নগর ভবনের নতুন অধিনায়ক কে