নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক হিসেবে খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু-কে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের অংশ হিসেবে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন মঞ্জু। এক সময় খুলনা মহানগর রাজনীতির প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত এই নেতা গত কয়েক বছর দলীয় অভ্যন্তরীণ সংকটে কার্যত প্রান্তিক হয়ে পড়েছিলেন। তবে রাজনৈতিক সক্রিয়তা থেকে কখনো সরে দাঁড়াননি তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
১৯৭৯ সালে ছাত্রদল কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। পরবর্তী সময়ে তিনি খুলনা মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘ সময়। প্রায় এক যুগ মহানগর বিএনপির সভাপতি থাকার পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবনে ছন্দপতন ঘটে। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ, শোকজ এবং পরবর্তীতে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি—সব মিলিয়ে তিনি ও তার অনুসারীরা দলীয় কাঠামোর বাইরে চলে যান।
তবে রাজনৈতিক মাঠ ছাড়েননি তিনি। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি, বড় সমাবেশ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলন—সবখানেই কর্মীদের নিয়ে সক্রিয় ছিলেন। দলীয় কোন্দল সত্ত্বেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে খুলনা-২ আসন থেকে নির্বাচন করেন। অল্প ব্যবধানে জামায়াত প্রার্থীর কাছে পরাজিত হলেও ফলাফল নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো অভিযোগ তোলেননি।
প্রশাসনিক দায়িত্বে নতুন চ্যালেঞ্জ
রাজনৈতিক অঙ্গনের উত্তাপ পেরিয়ে এবার প্রশাসনিক দায়িত্বে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সামনে রয়েছে নগর পরিচালনার বাস্তব চ্যালেঞ্জ। খুলনা সিটি করপোরেশন দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকট, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন প্রশ্নে সমালোচনার মুখে। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে তিনি কতটা কার্যকর প্রশাসনিক নেতৃত্ব দিতে পারেন—এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এক সময় দলীয় বিরোধে কোণঠাসা হওয়া একজন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনের দায়িত্ব দেওয়া নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক বার্তাবাহী।
খুলনার রাজনীতিতে মঞ্জুর এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি নিয়োগ নয়; এটি হয়তো তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের নতুন পর্বের সূচনা। এখন সময়ই বলবে, প্রশাসকের চেয়ার তার রাজনৈতিক অবস্থানকে কতটা শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে পারে।